ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি
খুলনা অফিস
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ফিরতি যাত্রায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের দূরপাল্লার যাত্রীদের। একদিকে টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য, অন্যদিকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। বাস কাউন্টারগুলোতে ধরনা দিয়েও মিলছে না টিকিট
ঢাকার ফিরতি টিকিট সংগ্রহ করতে আসা নগরীর টুটপাড়ার কলেজছাত্র আব্দুল আজিজ ৯ জুনের এসি বাসের দুটি টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটছেন তিনি। কিন্তু টিকিট পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, টিকিট সংগ্রহের জন্য সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি ও রয়্যালের মোড়ে সকল বাস কাউন্টার ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু কোথায় ঐ দিনের টিকিট পাননি।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে টিকিট প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা হারে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নগরীর রয়্যাল মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও শিববাড়ি মোড়ের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা জানান, মালিকপক্ষের নির্দেশেই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তারা জানেন না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। প্রমাণ পেলে জেল-জরিমানা করবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ী-ফরিদপুর-গোপালগঞ্জ— এ তিন জেলার মধ্যে অবস্থিত কালুখালী-মধুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের মধুখালী রেলস্টেশনে লোকাল ট্রেনের কোনো টিকেট নেই ১৫ দিন যাবত্। ফলে টিকেট ছাড়া যাত্রী ওঠায় প্রতিদিন রেলের হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। শনিবার স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া-গোপালগঞ্জ এক্সপ্রেস ভাটিয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি মধুখালী রেলস্টেশনে প্রবেশের আগে প্রায় চার/পাঁচশ যাত্রী দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রী টিকেট চাইলে দিতে পারছেন না স্টেশন মাস্টার। ট্রেনের ভেতরে টিকেট কালেশন করেন একজন মাত্র টিটি। তিনি পারছেন না সব যাত্রীকে চেক করতে ফলে এক শ্রেণির যাত্রী যে যার মতো ফাঁকি দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন রেলের হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। যা কালেকশন হচ্ছে তার মধ্যে আবার টিটির পকেটে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মধুখালী রেলস্টেশন মাস্টার মিন্টু কুমার রায় জানান, মধুখালী রেল স্টেশনে ১৫ দিন যাবত্ কোনো লোকাল ট্রেনের টিকেট নেই। উত্তর-দক্ষিণের কোনো রেলস্টেশনেরই টিকেট দিতে পারছি না। দুই মাস আগে টিকেটের চাহিদা পাঠালেও কর্তৃপক্ষ টিকেট পাঠাচ্ছে না। মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রেললাইনটি বর্তমানে চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিনা টিকিটে যাত্রী চলাচল করলে এ লাইনটি লোকসানে পড়বে। তিনি দ্রুত টিকিট সরবরাহের দাবি জানান।
মধুখালী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন বলেন, লোকসান ঠেকাতে জরুরিভাবে কর্তৃপক্ষকে টিকেট সরববরাহ করতে হবে যাতে করে যাত্রীরা টিকিট কেটে গাড়িতে উঠতে পারে।
