উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানিবৃদ্ধি পেয়ে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা নদীতে পানিবৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র গোবর্ধন হায়দারীয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বানভাসি মানুষদের।
শুক্রবার (১৭ জুন) সকালে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সে. মি উপরে ও ধরলা নদী বিপদসীমার ১৫ সে. মি উপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ মি. মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২, চন্ডিমারী, আরাজি ছালাপাক ,কুটিরপাড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানকার পরিবারগুলো। তিস্তায় পানিবৃদ্ধির ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে চরগোবরধন গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার বিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তায়ও কোমড় পরিমাণ পানি হয়েছে। ফলে অনেকেই তাদের গবাদিপশু নিয়ে কষ্ট হলেও আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে।’
মহিষখোচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পানিবন্দি পরিবারগুলো সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষজনের সকল ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, বন্যাসহ যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হবে।

মনপুরায় ৬ গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৮ হাজার মানুষ