মনপুরায়  ৬ গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৮ হাজার মানুষ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১২:৪২

ভোলার মনপুরায় অতিবৃষ্টি ও পূর্ণিমার জোয়ারে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলসহ ৬ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে দিনে-রাতে দুইবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ায় বেড়ির বাইরে থাকা পরিবারগুলো রান্না-বান্না  করতে না পেরে অর্ধাহারে-অনাহার মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের কোন সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ জোয়ারে প্লাবিত নিন্মাঞ্চলসহ বেড়িবাঁধের বাহিরের এলাকার পরিবারগুলোর।

এছাড়াও মনপুরার মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সদ্য ঘোষিত নতুন ৫নং কলাতলী ইউনিয়ন (বেড়িবাঁধহীন) নিম্নাঞ্চলসহ মূল ভূ-খণ্ডে ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও মো. ছালাউদ্দিন। এতে ওই এলাকার আনুমানিক ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে শুক্রবার (১৭ জুন) মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান।

পানিতে তলিয়ে গেছে মনপুরার বিস্তীর্ণ গ্রাম। ছবি: ইত্তেফাক

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরজ্ঞান ও সোনারচর গ্রামের বেড়ির বাইরে প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের আন্দির পাড়, কূলাগাজী তালুক গ্রামের পশ্চিম পাড় ও রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকার কাউয়ারটেক গ্রামে বাইরে  ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দিনে-রাতে দু’বেলায় জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় ওই সমস্ত এলাকার বেশিরভাগ মানুষ না খেয়ে দিনযাপন করছে।

হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, ‘হাজিরহাট ইউনিয়ন ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভূঁইয়ারহাট সংলগ্ন ব্রিজের খালের উপর স্লুইজগেট না থাকায় জোয়ার আসলে পানি ঢুকে পুরো দাসেরহাট গ্রাম তলিয়ে যায়।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠও তলিয়ে গেছে পানিতে। ছবি: ইত্তেফাক

এ ব্যাপারে হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নিজামউদ্দিন  হাওলাদার বলেন,  ‘জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের দাসেরহাট গ্রাম ও বেড়িবাঁধের বাহিরের বসবাসরত মানুষগুলো প্লাবিত হয়।  জোয়ারের পানিতে তাদের বসতভিটা ডুবে যায়। এই বিষয় আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।’

এই ব্যাপারে উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর জানান, বেড়ীর বাইরে তিন গ্রাম ও ঢাকার লঞ্চ ঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে দিনে-রাতে দু’বেলা প্লাবিত হয়। এতে তার ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ জোয়ারে পানিবন্দি অবস্থায় থাকে। তিনি দুর্গত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, মেঘনার পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেড়ির বাইরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান মুঠোফোনে জানান, পানিবন্দি কত মানুষ আছে তা নির্ণয় করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। এই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

 

 

 

ইত্তেফাক/এসজেড