২৩টি বেইলি ব্রিজের
অবস্থা নাজুক
মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
মুরাদনগর উপজেলার বেইলি ব্রিজগুলো বেহাল অবস্থায় যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি বেইলি ব্রিজ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন ও যাত্রীরা বেইলি ব্রিজ পারাপার হচ্ছে। এ সময় মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মুরাদনগর উপজেলায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি বেইলি ব্রিজের অবস্থা একেবারেই নাজুক। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কগুলোর মধ্যে মুরাদনগর-ঢাকা সড়ক, মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়ক, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়ক, মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ-হোমনা সড়ক এবং নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বেইলি ব্রিজগুলো একেবারেই জরাজীর্ণ। জরাজীর্ণ এসব সেতুর লোহার পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে যাত্রী ও পণ্যবাহী বাস-ট্রাক আটকে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় বিকল হচ্ছে ছোট-বড় অনেক যানবাহন।
এ ছাড়া প্রায় অর্ধশত বছর আগে মুরাদনগর-ঢাকা সড়কের থানা সংলগ্ন গোমতীর উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজটির গোড়া ও পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। ৯ বছর ধরে এটি একই অবস্থায় আছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ছয় বছর পূর্বে কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি ঝূঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড লিখে রেখেছে।
মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকা সড়কে ছয়টি বেইলি সেতু রয়েছে। প্রতিটি সেতুর পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে গেছে। গত ২৬ মে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকা সড়কের নেয়ামতকান্দি বেইলি সেতুর পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে বালি বোঝাই একটি ট্রাক আটকে যায়।
সমপ্রতি বোরারচর বাজারের পাশে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে বিটুমিন বোঝাই একটি লরি আটকে যায়। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একইভাবে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ছালিয়াকান্দি বাজারসংলগ্ন এলাকার বেইলি সেতুটি চালবোঝাই ট্রাকসহ ভেঙে পড়ে। এতে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তিন-চার দিন বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে সেতুটি মেরামত করা হলেও ঝুঁকি থেকে যায়। মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের করিমপুর নামকস্থানের ব্রিজটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চুরি হয়ে যাচ্ছে লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম। এ ছাড়া নবীনগর রোডে ছয়টি, রামচন্দ্রপুরে দুটি, বাঙ্গরা-সংচাইল রোডে ছয়টি, মেটাঙ্গর-শ্রীকাইল রোডে চারটি, সংচাইল-কোরবানপুর রোডে তিনটি, ডুমুরিয়া ও পাঁচকিত্তা রোডে দুটি এবং চাপিতলা রোডে একটি বেইলি সেতুরও একই অবস্থা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের গৌরীপুর সাব-ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন বলেন, নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ জানান, নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবগুলো অনুমোদন হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
