আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একটি প্রধান আর্থিক উত্স অবৈধ-মাদক ব্যবসা। কিন্তু এর থেকে বড় গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি মাদক-সন্ত্রাসকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
আফগান প্রবাসী নেটওয়ার্ক রিপোর্ট করেছে, ২০২১ সালে আমেরিকান প্রত্যাহারের অর্থ হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের সীমানা ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং আফগানিস্তান থেকে সম্ভাব্য অস্থিতিশীল প্রবণতাগুলোকে থামাতে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।
হেরোইন নেটওয়ার্ক এবং ড্রাগ লর্ডরা নিরাপত্তা, রাষ্ট্র গঠন এবং গণতান্ত্রিক শাসনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। আফগানের হেরোইন সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এছাড়া এতে দুর্নীতির প্ররোচনা, জনশৃঙ্খলা নষ্ট, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে দুর্বল ও প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ লাখ হেরোইন আসক্তের মৃত্যু ঘটছে।
আফগান হেরোইন ব্যবসার বিধ্বংসী প্রভাব দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, রাশিয়া, চীন, বলকান এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। তালেবানরা দীর্ঘদিন ধরে মাদককে তাদের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, পপি চাষ না হলে তালেনানরা হয়তো কখনোই বিশাল সংগঠন হয়ে উঠতে পারত না। যা ঘানি সরকারকে পতন করতে সক্ষম হয়েছে।
নারকো-ইনসিকিউরিটি, ইনকর্পোরেটেড-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ‘দ্য কনভারজেন্স অফ দ্য নারকোটিক্স আন্ডারওয়ার্ল্ড অ্যান্ড এক্সট্রিমিস্টস ইন আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান এবং এর বৈশ্বিক বিস্তার,’ পাকিস্তানের আইএস-এর সহায়তায় এটি সম্ভব হয়েছে। যারা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বেশ কয়েকটি গোপন অভিযান শুরু করেছিল। এদের সকলেই তাদের অভিযানের অর্থায়নের জন্য মাদক পাচারের ওপর প্রচুর নির্ভর করেছিল।
নিরাপত্তাহীনতা এবং আফিম অর্থনীতির মধ্যে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে। সরকারি তদারকির অভাব এবং বিকল্প জীবিকার অভাবের কারণে অনিরাপদ অঞ্চলগুলো পপি চাষের জন্য উর্বর অঞ্চল।
