অস্বাভাবিক জোয়ারে ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০২:৫৫

পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে ভোলাসংলগ্ন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে মনপুরায় মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলসহ ছয় গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে ভোলাসংলগ্ন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দ্বীপ জেলা ভোলার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। তবে এ পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাউবো সূত্রে জানা যায়, পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত ২০টি নিচু এলাকা ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ।

ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি জানান, এক দিন আগে মেঘনার পানি বিপত্সীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আরো কয়েক দিন এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী হোসেন, কালাম মাঝি, গনী মিয়া জানান, বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বর্ষায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে কাঁচা রাস্তাাঘাট ডুবে যায়। চরফ্যাশনের কুকরিমুকরি ইউপি চেয়ারম্যান হাসেম মহাজন জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে কুকরিমুকরি ঢালচরসহ এখানকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি রয়েছেন এখানকার অনেক মানুষ।

মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, মনপুরায় মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলসহ ছয় গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়াও ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের (বেড়িবাঁধহীন) নিম্নাঞ্চলসহ মূল ভূখণ্ডে তিন-চার ফুট জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও মো. ছালাউদ্দিন। এতে ঐ এলাকার আনুমানিক ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্হায় রয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে শুক্রবার মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান। হাজির হাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, হাজিরহাট ইউনিয়ন ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভুইয়ারহাট সংলগ্ন খালের ওপর স্লুইসগেট না থাকায় জোয়ার আসলে পানি ঢুকে পুরো দাসের হাট গ্রাম তলিয়ে যায়।

উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর জানান, বেড়িবাঁধের বাইরে তিন গ্রাম ও ঢাকার লঞ্চঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে দিনে-রাতে দুই বেলা প্লাবিত হয়। এতে তার ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ জোয়ারে পানিবন্দি অবস্হায় থাকে। মনপুরার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান মুঠোফোনে জানান, পানিবন্দি কত মানুষ আছে তা নির্ণয় করতে স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃ‌র্পক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি