মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হবিগঞ্জে ২ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ২০:০৮

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বনবাসী মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছে।

আজমিরিগঞ্জ উপজেলা সদর, কাকাইলছেও, বদলপুর বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ও মুরাদপুর ইউনিয়নে  ৩০ গ্রামের প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

শনিবার সকালে আজমিরিগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়কের কৈয়ারঢালা স্লুইসগেট সংলগ্ন রাস্তা ও পাহাড়পুর-মার্কুলি সড়কের নিকলীরঢালা এলাকার রাস্তা বানের তোড়ে ভেঙে গেছে।  ফলে বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলার কিছু গ্রামে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আজমিরিগঞ্জ উপজেলা সদরে প্রায় ৮ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিতে ডুবে যাওযায় আজমিরিগঞ্জ-কাকাইলছে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পিরোজপুর-বদলপুর রাস্তার ওপর দিয়ে কুশিয়ারা নদীর পানি হাওড়ে প্রবেশ করেছে।

এদিকে আজমিরিগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর, শরীফনগর নয়াবাড়ি, আদর্শনগর, চরবাজার এলাকায় বন্যার পানি বাড়িতে প্রবেশ করায় অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আজমিরিগঞ্জ সরকারি কলেজ ও মিয়াধন মিয়া গার্লস স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মসেন সিংহ জানান, মুরাদপুর ও দৌলতপুর ইউনিয়নে বন্যার পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নিরূপণে সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে বড় ভাকর, ইনাতগঞ্জ, দীঘলবাগ, আউশকান্দি ও কুর্শি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৈয়ারডালায় ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। ওই ইউনিয়নগুলোর পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।  বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি প্যাড বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে।

ইত্তেফাক/ইউবি