বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,খাদ্য-আশ্রয় নিয়ে যখন সিলেট সুনামগঞ্জের ভয়াবহ বন্যা দুর্গত বানভাসি মানুষ হাহাকার করছে তখন প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত আছেন পদ্মা সেতুর উৎসব নিয়ে। সরকার বাঁশি বাজাচ্ছেন, সানাই বাজাচ্ছেন, ঝাড়বাতির আলোয় উদ্বোধনের দিন কত আলোকোজ্জ্বল করা যায় পদ্মা সেতু সেটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিন্তু সিলেটের মানুষ ভেসে যাচ্ছে সেদিকে তার নজর নেই।প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়েই ব্যস্ত আছেন। কারণ এ পদ্মা সেতু তাকে অনেক লাভ দিয়েছে।
শনিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচতলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজদের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির মীর সরাফত আলী সপু,আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি প্রমুখ।
রিজভী বলেন, বন্যায় ভেসে যাচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষ, বন্যার পানিতে তারা সাঁতার কাটছে গরু ছাগলের সঙ্গে। কাঁচাঘর টিনের বাড়ি অর্ধপাকা বাড়ি সব ভেসে যাচ্ছে কিন্তু সেদিকে সরকারের খেয়াল নেই, সেখানে সরকারি কোনো ত্রাণ নেই,উদ্দ্যোগ নেই।অনাহারে অর্ধাহারে মানুষ দিন কাটাচ্ছে। তাদের উদ্যোগ একটা জিনিসের জন্য,সেটি হলো পদ্মা সেতু। কারণ এখান থেকে অনেক টাকা তাদের লোকজনের পকেটে গেছে,মন্ত্রী এমপিরা সুখে শান্তিতে আছেন। তারা কানাডা,মালয়েশিয়াতে বাড়ি বানিয়েছেন।সুইস ব্যাংকে পাচার করেছেন।
রিজভী বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ফলে জনগণকে পছন্দ করেন না। জনগণ বাঁচবে না মরবে সেটা তাদের দেখার বিষয় না। জনগণ পানিতে ভেসে যাক তাতে সরকারের কিছুই যায় আসে না। তাই আজকে যে শিশু জন্মাবে তার ওপর প্রায় এক লাখ টাকা ঋণের বোঝা চাপিয়েছেন এ নিশিরাতের সরকার। অথচ মেট্রোরেল পদ্মা সেতুসহ সব মেগা প্রজেক্টে তার দলের নেতাকর্মীরা হরিলুট করেছে।
রিজভী বলেন, বিএনপির সিলেট মহানগর,সিলেট জেলা তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী গোটা বন্যা কবলিত এলাকায় ব্যাপকভাবে মানুষকে উদ্ধার এবং বানভাসি মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। আর আওয়ামীলীগ ব্যস্ত পদ্মা সেতু নিয়ে। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সিলেট বাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
