উন্নত জাপানিজ প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ ও বিশেষায়িত চিকিৎসকদের দিয়ে দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল। শনিবার (১৮ জুন) প্রধান অতিথি হিসেবে হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও বার্তা পাঠান।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, দেশের করোনাকালে শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশে জাপানের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল স্থাপনে জাপান সরকারকে ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
জাপানের গ্রীন হসপিটাল সাপ্লাই, জাইকা এবং বাংলাদেশের আইচি মেডিকেল গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শীপ আইচি মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেড এর যাত্রা শুরু হয়, যার আওতাভুক্ত শীপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালটি ঢাকার তুরাগে অবস্থিত ৬৫০ সজ্জা বিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল।
বাংলাদেশে এই প্রথম জাপানি ব্যবস্থাপনায় শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল শুরু থেকেই স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষতা এবং মান বজায় রেখে কাজ করে আসছে। হাসপাতালটি সকল বিভাগের দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং সেবিকা দ্বারা সকল শ্রেণীর মানুষদের সাফল্যের সাথে সুচিকিৎসা প্রদান করে আসছে। মাল্টি-স্পেশালাইজড বেসরকারি এই হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ এবং এনআইসিইউ সুবিধাসহ ১০৭ টি শয্যা রয়েছে। আরো রয়েছে অত্যাধুনিক উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ চিকিৎসক এবং দক্ষ চিকিৎসা কর্মী। ২০ হাজার বর্গ মিটারের এই হাসপাতালে রয়েছে আলাদা আলাদা ইনপেশেন্ট বিল্ডিং, অফিস এবং সার্ভিস সাপোর্ট বিল্ডিং সহ ৫১টি বহির্বিভাগ কক্ষ।
জাপানি স্টাইলের ব্যাক আইল সিস্টেমসহ ৩টি অত্যাধুনিক মডুলার অপারেশন থিয়েটার সহ সর্বমোট ১২টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, কার্ডিয়াক সেন্টার সহ সর্বাধুনিক বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা এবং সর্বাধিক নিরাপত্তা সম্বলিত গাড়ির পার্কিং এর সুব্যবস্থা রয়েছে।
এই হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির চেয়ারম্যান কোবায়াশি হিরোইউকি। তিনি আরও বলেন এই হাসপাতালটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র আশুলিয়া বা ঢাকা নয় সারা বাংলাদেশের রোগীরা উন্নত স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। এবং বাংলাদেশ-জাপান যৌথ উদ্যোগে হাসপাতালটি নির্মিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন কার্যনির্বাহী সদস্য (বিডা) মোহসিনা ইয়াসমিন, জাইকার প্রধান প্রতিনিধি হায়াকাওয়া য়ুহো, জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব নাকাযাওয়া কেইচিরও, অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান (সভাপতি, স্বাচিপ), জাপানের রাষ্ট্রদূত জনাব ইতো নাওকি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলন হাসপাতালটির চেয়ারম্যান কোবায়াশি হিরোইউকি, ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সিএফও কোজিমা হিদেও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন।
