শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, ৪ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ০৬:০০

তুমুল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা স্মরণকালের প্রবল পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের আরো কিছু জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। কারণ সেসব এলাকায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে, নদীগুলোর পানি আরো বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার থেকে পানি কমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হবে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফ?লে দে?শের চার বিভা?গে ভারী থে?কে অ?তি ভারী টানা বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, ৮৯ মিলিমিটারের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলে বলা হয় অতি ভারী বর্ষণ। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মন্ডল জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে আগামী তিন দিন অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। আর খুলনা ও রংপুরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে থাকবে। আগামীকাল থেকে পানি ভৈরব বাজার হয়ে নেমে যাবে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আর উত্তরাঞ্চলে আরো তিন থেকে চার দিন পানি বাড়তে থাকবে। তবে সেখানে পরিস্থিতি নাজুক হবে না। যমুনা অববাহিকায় পানি বাড়তে থাকবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকার স্থানগুলোতে সামগ্রিকভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার কয়েকটি জেলায় স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের তিন এলাকার বন্যা আরো সাত থেকে ১০ দিন ধরে থাকতে পারে। এই তিন এলাকা হলো, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা, গঙ্গা অববাহিকা এবং মেঘনা অববাহিকা।

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং উজানের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থিত ভারতের অরুণাচল ও আসাম রাজ্যে চলতি মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে এ সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে এবং কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও পাবনা জেলায় সাত থেকে ১০ দিন মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। জুনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিকে এসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে হিমালয় পাদদেশীয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় পাঁচ থেকে সাত দিনের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। চলতি মাসের চতুর্থ সপ্তাহের প্রথমদিকে এসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

গঙ্গা অববাহিকা: চলতি মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে গঙ্গা নদীর পানি-সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে, পদ্মা নদীর পানি-সমতল বেড়ে বিপত্সীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। যার ফলে চলতি মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মেঘনা অববাহিকা: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘনা অববাহিকা এবং এর কাছাকাছি ভারতের মেঘালয় ও বরাক অববাহিকায় চলতি মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং সময় বিশেষে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে সুরমা, কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। যার ফলে, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় সাত থেকে ১০ দিন মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরে এ মাসের চতুর্থ সপ্তাহের প্রথম ভাগে বৃষ্টিপাত কমে এসব অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া জুনের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়লেও বিপত্সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।

ইত্তেফাক/ ইআ