শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলেটে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী, যুক্ত হচ্ছে হেলিকপ্টার ও ডুবুরি দল

  • উদ্ধারকাজে নিয়োজিত আছে সেনাবাহিনী
  • বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের দুটি ডুবুরি দল কাজ করবে
  • বিভিন্ন উপজেলায় ৫ হাজার বন্যার্তের মাঝে খাবার পৌঁছে দিয়েছে বিজিবি
আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ০৪:৪৪

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া সিলেটের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা। সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগেই মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এবার উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে যুক্ত হচ্ছে কোস্ট গার্ডও। বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারের পাশাপাশি দুটি ডুবুরি দল নিয়ে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করবে কোস্টগার্ড।

এদিকে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জিএম সেলিম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, বিজিবির ৩০টি টিম বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যেই সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৫টি সহ ৯ উপজেলায় ৪ হাজার লোকের মধ্যে শুকনো খাবার এবং দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে। সীমান্ত এলাকার বেশ কিছু লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বিজিবি। ছবি: আব্দুল গনি/ইত্তেফাক

শনিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজে নেমেছে নৌবাহিনী। এছাড়া বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও কোস্ট গার্ডের দুটি ডুবুরি দলও উদ্ধারকাজে যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, নৌবাহিনীর ৩৫ জনের একটি দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আরো ৬০ জনের আরেকটি বড় দল ও কোস্ট গার্ডের দুটি ক্রুজ আসছে। একটি সুনামগঞ্জ ও আরেকটি সিলেটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হবে।

বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌবাহিনীর একটি দল সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছে। অপর দল কোম্পানিগঞ্জের দিকে রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী সিলেট সদর, কোম্পানিগঞ্জ এবং গোয়াইনঘাটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে বিজিবির সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,  বিজিবি ক্যাম্পসূমহ, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি), সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি), সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এবং সেক্টর সদর দপ্তর একযোগে বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে। শনিবার (১৮ জুন) সিলেট নগরীর বাগবাড়ি এলাকার বর্ণমালা সিটি একাডেমিতে আশ্রয় নেওয়া ৫০০ জন বন্যার্ত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন রিজিয়ন কমান্ডার। আরও ১০০০ মানুষকে শুকনো খাবার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন। ছবি: আব্দুল গনি/ইত্তেফাক

অন্যদিকে শুক্রবার (১৭ জুন) দুপর থেকে সিলেটে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (১৭ জুন) সুনামগঞ্জেও উদ্ধারকাজ শুরু করে তারা। সেনাসদস্যরা সুনামগঞ্জের দিরাই, জামালগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার এবং সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। মেজর আশিকের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করছে জামালগঞ্জে। মেজর আশাবুর রয়েছেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার এলাকায়। এছাড়া কুমারগাঁও পাওয়ার স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে মেজর মোক্তাদিরের টিম। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে রয়েছেন ক্যাপ্টেন মারুফ, গোয়াইনঘাটে ক্যাপ্টেন আশরাফ ও সিলেট সদরে টিম লিডারের দায়িত্বে রয়েছেন ক্যাপ্টেন ফয়সাল।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংস্থাটির সিলেটের সব কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় অফিসকে বন্যায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় খোলা হয়েছে বন্যায় উদ্ধার কাজের মনিটরিং সেল। গত শুক্রবার থেকে বিপর্যয়ের মুখে থাকা সিলেট সদরের খাদ্য গুদামে ঢুকে পড়া পানি নিয়মিতভাবে ফায়ার পাম্পের মাধ্যমে সেচের কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এছাড়া বিপর্যয়ের মুখে থাকা কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও নিয়োজিত করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। সেখানেও তারা ভেতরে ঢুকে পড়া পানি নিয়মিতভাবে সেচ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও চলমান রাখার কাজে সহায়তা করছে।

সিলেট মহানগীর সড়ক ডুবে গেছে বন্যায়। ছবি: আব্দুল গনি/ইত্তেফাক

সিলেটে জেমিনি বোট পাঠানো হয়েছে। জেমিনি বোটের সাহায্যে শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। ইতোমধ্যেই সিলেটের দোয়ারাবাজার ফায়ার স্টেশনে ৪০ জন আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতেও কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় সব সাহায্য নিয়ে এ দুর্যোগে সিলেটবাসীর পাশে থাকবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ইত্তেফাক/এসটিএম