ফের করোনা আতঙ্ক গ্রাস করেছে চীনকে। ক্ষণিকের আনন্দ ডেকে আনল বিপদ। বেইজিংয়ের একটি বারে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলেন ১৬৬ জন নাগরিক। প্রত্যেকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র শু হেজিয়ান বলেন, "চাওইয়াং হেভেন সুপারমার্কেট বারে ভয়াবহ আকারে করোনা থাবা বসিয়েছে। ১৬৬ জন গ্রাহক ওই বার থেকে ফিরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আরও বহু মানুষের শরীরে দেখা গিয়েছে একাধিক উপসর্গ।"
বেইজিং ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টারের পক্ষ থেকে লিউ জিয়াফোয়েং বলেন, ''এই মুহূর্তে বেইজিংয়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রদেশে নতুন করে একাধিক কোভিড নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিনোদন স্থানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।"
মাত্র দু'সপ্তাহ আগেই করোনায় কিছুটা শিথিলতা এনেছিল বেইজিং। কিন্তু, ফের একবার চীনের রাজধানীতে মাথাচাড়া দিয়েছে করোনা। বেইজিং থেকে কিছুটা দূরে শহরতলী এলাকায় একটি থিম পার্ক রিসোর্ট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। পার্কের দরজা খুলতে না খুলতেই ফের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিন কর্মচারী। জানা গিয়েছে, এই তিনজনই হেভেন সুপারমার্কেট বারে গিয়েছিলেন।
সাংহাইতেও নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। কোয়ারেন্টাইন এলাকার বাইরের অঞ্চলেও নতুন করে ছড়াচ্ছে করোনা। নতুন করে করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সংক্রমণকে ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় চীনা প্রশাসনকে। এই মুহূর্তে সাংহাইয়ের ১৬ জেলার ১৫ টিতেই আরটি-পিসিআর চলছে জোরকদমে। এর মধ্যে পাঁচটি জেলায় আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলক আরটি-পিসিআর করতে বলা হয়েছে।
চীনের দু'টি শহরে সবেমাত্র গত ১ জুন থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে শি জিনপিংয়ের 'জিরো কোভিড নীতি'।
১১ জুনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে নতুন করে ২৭৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ১৩৪ জনের শরীরে দেখা গিয়েছে একাধিক উপসর্গ। বাকি ১৪১ জনের কোনও উপসর্গ ছিল না। এই মুহূর্তে চীনে মোট অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৫ হাজার ২২৬।
