স্বাস্থ্য সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সেবা। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে এবং সুস্থ ও নিরোগ জাতি গঠনের লক্ষে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নার্স ও মিডওয়াইফ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর।
উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সমূহে মানসম্মত নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক নার্সিং ও মিডওয়ইফারি শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি একটি সমাদৃত এবং মহান পেশা হিসেবে স্বীকৃত যা স্বাস্থ্যসেবার একটি অপরিহার্য অংশ। ভারতীয় উপমহাদেশে নার্সিং পেশার যাত্রা ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া হতে শুরু হলেও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সত্তরের দশকে নার্সিং পেশাকে শক্তিশালীকরণ ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেবা পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের নার্সিং পেশার মানোন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি উচ্চ শিক্ষিত নারীদের এ পেশায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান করে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। বাংলাদেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহযোগিতায় ২০১৬ সালে পূর্বতন সেবা পরিদপ্তরকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অদ্যবধি নার্সিং সেক্টরে নার্স নিয়োগের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রায় ৪০,০০০ হাজার নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, আরও প্রায় ৫০০০ নার্স নিয়োগের কার্যক্রম চলমান। নার্সদের পেশাগত ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষে এই সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে ঢাকার, মহাখালীতে নিজস্ব ভবনে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক নার্স নিয়োগ এবং অসংখ্য নতুন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলেও সেবা ও শিক্ষা খাত এতদিন চলেছে পুরনো আমলের নিয়োগ বিধিমালা দিয়ে যা যুগোপযোগী করে নার্সদের পদ উন্নতির ক্রমবিকাশ সাধনে বর্তমান এবং নতুন নিয়োগ বিধিমালা ও পদ উন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন প্রায় চূড়ান্তের পথে। বাংলাদেশের নার্সিং সেবা ও শিক্ষার মান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং বিশেষায়িত নার্স তৈরি করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার মুগদা, ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতীয় নার্সিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (নিয়ানার)। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে নার্স ও মিডওয়াইফগণের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। সে লক্ষ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ওরিয়েন্টেশন কোর্স, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আইসিইউ, পেডিয়েট্রিক নার্সিং, জেরিয়েট্রিক নার্সিং, রিসার্চ মেথোডোলজি, ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, পিএমআইএস ও আইটি, এপিএএমএস, ৪র্থ শিল্প বিপ্লব, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, আইপিসি ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি স্টাইপেন, মিডওয়াইফারি সার্ভিস, শুদ্ধাচার কৌশল, এপিএ, ইনোভেশন, জিআরএস, ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতা, নার্সিং এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট, সার্ভিস রুলস, সিমুলেশন এডুকেশন, নার্সিং লিডারশিপ ফর হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট, প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা, চক্ষু সেবা বিষয়ক, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, সিটিজেন চার্জার, ই-গভন্যান্স ও অন্যান্য ট্রেনিং সমূহে প্রায় ২০,০০০ নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার এই অধিদপ্তরের দায়িত্বে আসার পর থেকে অদ্যবধি নার্সদের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজসমূহকে সহজী করনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। নব নিয়োগ প্রাপ্ত নার্সদের দ্রুত সময়ে অরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ প্রদান, স্পেশালইজ নার্স তৈরির লক্ষ্যে আইসিইউ, পিআইসিইউ, জেরিয়েট্রিক নার্সিং, কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা, ইনফেকশনাল প্রিভেনশান এন্ড কন্ট্রোল, কোয়ালিটি এসোরেন্স এন্ড হসপিটাল ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এদিকে নার্সিং ইন্সটিটিউট ও কলেজ সমূহে নার্সিং শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এদের প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল কার্যক্রমে ডিজিটালাইজড করা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধ পরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় জনগণের জন্য মানসম্মত নার্সিং সেবা নিশ্চিত করনে ও আধুনিক নার্সিং শিক্ষা সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনে আমাদের নার্স কর্মকর্তারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নির্ভীক সৈনিক হিসেবে নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন। সারা দেশে কোভিড-১৯ ভেকসিন প্রদান কার্যক্রমেও তাদের ভূমিকা প্রশংসারযোগ্য। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সাফল্যের অন্যতম অংশীদার আমাদের নার্সগণ।
এদিকে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশা বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সন্মানীয় ও সেবামূলক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র সমূহে নার্স এবং মিডওয়াইফগণ রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের পাশে সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। বাংলাদেশে নার্সিং পেশার অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত কল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্ব্যবধানে বাংলাদেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশা ও সেবাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে তথা জনগণের দোর-গোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সকলেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
