রফিকুল ইসলাম রবি
হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করা নিয়ে নাগরিকদের বাড়তি ঝামেলা আর থাকছে না। চাইলেই ঘরে বসে স্মার্ট কার্ডে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আগামী ৩০ জুনের পর থেকে কোনো হোল্ডিংধারীর কাছ থেকে সরাসরি হাতে, কাগজে লিখে বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হোল্ডিং ট্যাক্স গ্রহণ করবে না সংস্থাটি। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য হোল্ডিংধারীদের স্মার্ট কার্ড প্রদান করছে ডিএসসিসি। অপরদিকে সংস্থাটির সীমানায় অবস্থিত সকল বাড়ির মালিকের তথ্য জানতে নতুন একটি ডাটাবেজ তৈরি করছে। আগামী ১লা জুলাই থেকেই এই ডাটাবেজ ব্যবহার করে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করবে সংস্থাটি। এর ফলে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানে বাড়ির মালিকদের হয়রানির দীর্ঘ যুগের অভিযোগের অবসান ঘটবে।
কাগজের বইতে হাতে কলমে-কাগজে লিখে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে সিটি করপোরেশন। এতে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নাগরিকদের। নাগরিকদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের রাজস্ব শাখার কর্মীদের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করলেও তা মূল বইয়ে বা করপোরেশনের কোষাগারে লিপিবদ্ধ করে না। ফলে তাদের বকেয়া বিলের চিঠি প্রদান করা হয়। এতে ট্যাক্স প্রদানকারীকে আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। তবে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে নাগরিকরা বিল পরিশোধ এবং আপডেট তথ্য জানতে পারবেন।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, স্মার্টকার্ড দিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বিকাশের যে কোনো রিচার্জ পয়েন্টে গিয়ে ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবেন নাগরিকরা। ইন্টারনেটে তথ্য জেনে ই-হোল্ডিং নাম্বার অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে হোল্ডিংধারীর দেওয়া নম্বরে প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের মেসেজে চলে আসবে। একই তথ্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছেও ট্যাক্স পরিশোধের মেসেজ চলে যাবে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সংস্থাটির নগর ভবনে ১৫ দিনব্যাপী পৌর কর মেলায় যারা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন তাদের স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে ৪ হাজারের বেশি হোল্ডিংধারীকে স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটির আওতাধীন ১ লাখ ৬২ হাজারের বেশি হোল্ডিংধারীকে স্মার্টকার্ড প্রদান করা হবে।
জানা যায়, যেকোনো ব্যক্তি সিটি করপোরেশনের বাজার শাখায় এসে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুধুমাত্র ই-হোল্ডিং নম্বর দিয়েই ট্যাক্স প্রদান করতে পারবেন। চলতি অর্থবছরে প্রত্যেক হোল্ডিংধারীকে ট্যাক্স বইয়ে একটি করে ই-হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হয়েছে। এতে অন্য কোনো তথ্য প্রয়োজন হবে না। তবে যেকেউ চাইলে সংস্থার জোনাল অফিস থেকে বাড়ির স্মার্টকার্ড করতে পারবেন। এজন্য হোল্ডিংধারীকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরসহ ই-মেইল আইডি প্রদান করতে হবে। বাড়ির মালিক থেকে এসব তথ্য নিয়ে আগামী ৯ জুন থেকে প্রতিটি জোনের অফিসে ডাটাবেজ তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হবে। ডাটাবেজ তৈরি করতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রত্যেক বাড়ির মালিককে সকল তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করতে বলা হয়েছে। সকল তথ্য সন্নিবেশিত করার পর আগামী ১ জুলাই থেকে গ্রাহকদের স্মার্টকার্ড প্রদান করে হোল্ডিং ট্যাক্স গ্রহণ ও প্রদান কার্যক্রম শুরু করবে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার জানান, ৩০ জুনের পর থেকে কোনো হোল্ডিংধারীর কাছ থেকে স্মার্টকার্ড ছাড়া সরাসরি হাতে বা কাগজে লিখে বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে কোনো প্রকার হোল্ডিং ট্যাক্স গ্রহণ করা হবে না। তাই বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি বাড়ির মালিককে স্মার্টকার্ড ব্যবহার করতে হবে। উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নে সকল বাড়ির মালিককে তথ্য দিয়ে ও সময়মতো হোল্ডিং কর পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
