নিখোঁজ গ্রাহকদের সন্ধানে বিদ্যুত্ বিতরণ সংস্থা

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ২২:৪২

ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল নিয়ে বিদ্যুত্ খাতের সেবাদাতা ও গ্রাহকদের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কখনো ব্যবহূত বিদ্যুতের চেয়ে বেশি পরিমাণের বিল করে বিতরণ কোম্পানি। কখনো-বা ঠিকানায় না থাকা ব্যক্তির নামেও জারি হয় বিল। বিদ্যুত্ খাতের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। নিখোঁজ গ্রাহকদের খুঁজে বের করা বা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি ওভারবিলিং না করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ বা নিষ্ক্রিয় গ্রাহকদের তালিকা তৈরির জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক গ্রাহকের বকেয়া বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে। বারবার চিঠি দিয়েও তাদের সাড়া মিলছে না। এই অবস্থায় ওই গ্রাহকদের তালিকা তৈরির কাজ করা হচ্ছে। যাদের খোঁজ পাওয়া যাবে তাদের কাছ থেকে বিল আদায় করা হবে। আর যাদের খোঁজ না পাওয়া যাবে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

দেশে বিদ্যুত্ বিতরণ করছে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সমিতিগুলো,  ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি।  বিতরণকারী সংস্থাগুলো জানায়, সনাতনী পদ্ধতিতে বিলিংয়ের কারণে কিছু গ্রাহককে খুঁজে পাচ্ছে না তারা।  ধারণা করা হচ্ছে— সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ গ্রাহক রয়েছেন আরইবির। বর্তমানে বিল দেওয়া ও নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। ফলে কোনো গ্রাহক এক মাস বিল না দিলেই তা বের করা সম্ভব। এ সুযোগে নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কিছু গ্রাহকের নামে বিদ্যুত্ সংযোগ ছিল এবং তারা সেই সংযোগ থেকে বিদ্যুত্ ব্যবহারও করেছেন। কিন্তু নোটিশ না দিয়েই তারা বিদ্যুত্ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বিল দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকি ঠিকানাও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসব গ্রাহকের দেওয়া ঠিকানায় হাজির হয়েও তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা কোথায় গেছেন, কেউ বলতেও পারছেন না। এসব হিসাব গ্রাহকরা নিজে থেকে বন্ধ করার আবেদন না করায় বন্ধও করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, অনেকে বাড়ি বা বস্তির ঘর পরিবর্তনের পর বিগত মাসের বিল পরিশোধ করেন না।  হাতিরঝিলে কাজের সময় উচ্ছেদ বা পুনর্বাসন হওয়াদের অনেকেরই খোঁজ পরে মেলেনি। কিন্তু তাদের হিসাবগুলো বন্ধও করতে      পারছি না। এখন এমন খোঁজ না পাওয়া গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারোয়ার বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিখোঁজ গ্রাহকদের তালিকা ডেসকোও তৈরি করছে। তালিকা প্রণয়ন শেষ হলেই জানা যাবে কতজন এমন গ্রাহক রয়েছেন।

বিদ্যুত্ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, তালিকা তৈরি হওয়ার পর ছোটখাটো বকেয়া বিল মওকুফ করার পক্ষে সরকার। বড় রকমের বকেয়া রয়ে গেছে এমন কোনো গ্রাহক থাকলে তাকে খুঁজে বের করা দরকার। পুরো বিদ্যুত্ খাতকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সহজ মনিটরিংয়ের মধ্যে আনতে চায় সরকার। ভবিষ্যতে শতভাগ বিদ্যুত্ প্রিপেইড মিটারে বিতরণ করা হবে। ফলে এর আগে বিলিংসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করতে মনোযোগী সরকার।