মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সেই নারী ইউপি সদস্যের আকুতি

হাসপাতাল থেকে ফিরে থাকব কোথায়, কী করে খাব!

আপডেট : ২১ জুন ২০২২, ১৭:১৯

‘দৈনিক ১৫০ টাকা মজুরিতে হোটেলের থালা-বাসন মাজার কাজ করে সংসার চালাতাম। তিন মাস পরপর ১০ হাজার ৮০০ টাকা সন্মানী ভাতা হিসেবে পাই, ঐ টাকা অসহায় মানুষের জন্যই খরচ হয়ে যায়। পুকুর পাড়ের চালাঘরে বসবাস করি। বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন সুবিধা নেই বাড়িতে। সুস্থ ছিলাম, সব মানিয়ে নিতাম। মনে হয় আর কখনো পুরো শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাব না। আমার তো সহায়-সম্বল নেই। হাসপাতাল থেকে ফিরে থাকব কোথায়, খাব কী!’

গতকাল সোমবার বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন সেই নারী ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুন (৬৫) অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এসব কথা বলেন দৈনিক ইত্তেফাককে। তার স্বামীর নাম আবু তাহের (৭২)।

তাড়াশ উপজেলা থেকে ২ নম্বর বারুহাস ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের বিনসাড়া ৭, চৌবাড়িয়া ৮ ও কুসুম্বী ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ৭৩১ ভোট বেশি পেয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খোদেজা খাতুন। তিনি আগের মেয়াদেও ইউপি সদস্য ছিলেন। গত ১২ জুন হোটেলে কাজ শেষ করে বাড়ি যাওয়ার সময় তাড়াশ রানীহাট আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুন। বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও নিউরো সার্জন বিভাগের প্রধান ডা. সুশান্ত কুমার সেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্ক থেঁতলে গেছে ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুনের। বাম হাতের কবজির ওপরের জোড়া হাড়ের একটি ভেঙে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা, ফুলা ও জখম ছিল। গত রবিবার তার মাথার আরেকবার সিটি স্ক্যান করে দেখা হয়েছে। মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে রক্ত ক্ষরণ নেই। রক্ত ক্ষরণ হলে অপারেশন করতে হতো। তিনি আগের থেকে কিছুটা সুস্থ। অল্প কথবার্তা বলতে পারছেন। মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ খেতে হবে। ডা. সুশান্ত কুমার সেন আরো বলেন, তাকে ঢাকা মেডিক্যাল, বিশেষ করে নিউরো সায়েন্সে চিকিত্সা করাতে পারলে ভালো হতো।

হাসপাতালে কথা হয় ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুনের ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও ছোট বোন কদভানুর সঙ্গে। তারা বলেন, আমাদের বোন একজন নির্লোভ ভূমিহীন জনপ্রতিনিধি। পয়সাকড়ি নেই। তাড়াশের ইউএনও স্যার ও এক চিলতে হাসি ফাউন্ডেশন যেটুকু অর্থসহায়তা করেছেন তা প্রায় শেষের দিকে। আমাদের বোনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হলে সরকারি সহয়তা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি স্বপ্না চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুনের শরীর ও মন পুরো ভালো হতে বেশ সময় লেগে যেতে পারে। বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন সুবিধাহীন জরাজীর্ণ চালাঘরে বসবাস করা একজন অসুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। 

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ইউপি সদস্য খোদেজা খাতুনের ঢাকায় চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমার নিজ খরচে ব্যবস্থা করব। তার বসতঘরের ব্যাপারেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

থেমে থাকা বাসকে চলন্ত বাসের ধাক্কা, আহত ২৫

সুনামগঞ্জে হত্যামামলায় ১ জনের আমৃত্যু, ৫ জনের যাবজ্জীবন

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা পেলো ছাগল ও সেলাই মেশিন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রক্সি পেইন্টের কর্মকর্তা হত্যা মামলায় বাপ-ছেলে গ্রেফতার

দুজন খামারি পেলেন ফ্রিজার ভ্যান ও পিকআপ 

বঙ্গমাতার জন্মদিনে অসহায় নারীরা পেলেন সেলাই মেশিন  

সাত মাসে ১৫০০ কেজি ফল বিক্রি করেছেন শহিদুল