দিল্লিতে লাখো কৃষকের বিদ্রোহ আজ পার্লামেন্টে ভবনে বিক্ষোভ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪৫

ভারতের দিল্লিতে এক লাখের বেশি কৃষক বিক্ষোভ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লির ব্রিজওয়াসান থেকে যাত্রা শুরু করে রাতে রামলীলায় পৌছায় কৃষকরা। তাদের দাবি, পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডেকে কৃষি নিয়ে চলা সংকটের বিষয়টি আলোচনা করতে হবে। আজ কৃষকরা পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভ করবে। খবর এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

অন্তত ২০০টির বেশি কৃষক সংগঠনের ডাকা এই বৃহত্তর আন্দোলন স্বাধীন ভারতে এই প্রথম। ‘কিষাণ মুক্তি মার্চ’ নামের এই বিক্ষোভের আয়োজন করে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এইআইকেএসসিসি)। নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে দিল্লি অভিমুখে রওনা হয় এক লাখের বেশি কৃষক। নিজেদের দাবি আদায়ে টানা দু’দিনের কর্মসূচিতে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গসহ ১০ রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকরা। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে রাজধানী ঘেরাও করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে। মূলত বামপন্থীরা এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর তিন প্রান্ত থেকে আসা প্রান্তিক কৃষকদের মিছিল গতকাল রামলীলা ময়দানে পৌছায়। মিছিল পৌঁছনোর পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কৃষক পরিবারের সদস্যরাই। রাজধানীর হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে গোটা রাত কাটায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। আজ শুক্রবার রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের কর্মসূচি। রামলীলা থেকে আজ মিছিল যাবে পার্লামেন্ট ভবনের উদ্দেশ্যে। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে একযোগে বিক্ষোভ দেখাবে তারা। জানা গেছে, ফসলের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি, কৃষক ও খেতমজুরের ফসলের ন্যায্য দাম, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ রূপায়ণ এবং ঋণ মওকুফের দাবিতে রাজধানী অচল করার ডাক দিয়েছে এইআইকেএসসিসি। অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ২শ’ কৃষক সভার যৌথ উদ্যোগে চলছে কৃষক বিদ্রোহ।

এইআইকেএসসিসি’র সভাপতি অশোক ধাওয়াল সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু না হলেও একাধিক লং মার্চ করা হয়েছে। আগস্টে জেল ভরো, সেপ্টেম্বরে কৃষক-শ্রমিক যুক্ত কর্মসূচির পরে এই দুই দিনের অভিযান। তবে রাজধানীতে পার্লামেন্ট ভবন অভিযানই যে শেষ কর্মসূচি নয় তাও জানিয়েছেন কৃষক নেতারা। তাদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানলে ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা আগামী ৮-৯ জানুয়ারির দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটে তারাও শামিল হবে।