আফগানিস্তানের কাবুলের কাছে একটি প্রাচীন বৌদ্ধ শহর চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। চীনের বৃহত্তম তামার খনির কারণে শহরটি ঝুঁকির মধ্যে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কাবুলের ৪০ কিমি (২৫ মা) দক্ষিণ-পূর্বে লোগার প্রদেশের অনুর্বর অঞ্চলে অবস্থিত একটি স্থান মেস আইনাক। এটি ১ হাজার থেকে ২ হাজার বছরের মধ্যে পুরনো বলে মনে করা হয়। এটি এক সময় তামা উত্তোলন ও বাণিজ্যের আশেপাশে সংগঠিত একটি বিশাল শহর ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানে বৌদ্ধ মঠ, স্তূপ, দুর্গ, প্রশাসনিক ভবন এবং বাসস্থান আবিষ্কার করেছেন। যখন শত শত মূর্তি, ফ্রেস্কো, সিরামিক, মুদ্রা এবং পাণ্ডুলিপিও আবিষ্কৃত হয়েছে।
ফরাসি কোম্পানি আইকনেমের প্রত্নতত্ত্ববিদ বাস্তিয়েন ভারুৎসিকোস বলেন, 'শতাব্দীর শুরুতে এতে লুটপাট হওয়া সত্ত্বেও, মেস আইনাক বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর মধ্যে একটি।'
কিন্তু তালেবানদের ক্ষমতায় ফিরে আসায় দেশটিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন রাজস্ব খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা খনন প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এতে করে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক কাজকে শেষ করে দিতে পারে।
এর আগে ২০০৭ সালে চীনা খনির জায়ান্ট মেটালার্জিক্যাল গ্রুপ কর্পোরেশন (এমসিসি) একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিয়েছে। এটি পরবর্তীতে এমজেএএম নামে পরিবর্তিত হয় এবং ৩০ বছরের মধ্যে আকরিক খনির জন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
১৫ বছর পরেও খনিটির অস্তিত্ব নেই-চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী নিয়ে বেইজিং এবং কাবুলের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং মতবিরোধ বিলম্বের কারণ হয়েছে।
আফগানিস্তান তামা, লোহা, বক্সাইট, লিথিয়াম এবং বিরল আর্থের বিশাল খনিজ সম্পদে ভরপুর। যার মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। মেস আয়নাক থেকে তালেবানরা বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করবে বলে আশা করছে এবং বর্তমানে তারা প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে চাচ্ছে।
