ট্যারিফের স্থলে চালু হচ্ছে স্পেসিফিক ভ্যাট

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ২২:৫২

বর্তমানে ট্যারিফ ব্যবস্থায় পণ্যের ওজনের উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা উঠে যাচ্ছে আগামী অর্থবছর থেকে। এ ব্যবস্থা উঠে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় ও স্পর্শকাতর পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ নামে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে রড ও স্টিল জাতীয় পণ্য, বস্ত্র, আমদানিকৃত জ্বালানি তেলসহ আরো কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে। আগামী ১৩ জুন বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বাজেটের সর্বনিম্ন হার হবে পাঁচ শতাংশ। তবে স্পেসিফিক ভ্যাটের হার হবে দেড় থেকে আড়াই শতাংশের মধ্যে। 

বর্তমানে প্রায় দেড় শতাধিক পণ্যের উপর ট্যারিফ ব্যবস্থায় ভ্যাট প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্টিল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এবং টেক্সটাইলসহ বেশকিছু পণ্যের ওজনের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য ধরে এর উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আকারে আদায় করা হয়। এটি ট্যারিফ ভ্যালু নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রতিটন রডের উপর ট্যারিফ ভ্যালু ব্যবস্থায় ভ্যাট ৪৫০ টাকা। আর বস্ত্রখাতে প্রতি কেজি সুতার উপর তিন টাকা আদায় করা হয়। ট্যারিফ ব্যবস্থায় ভ্যাট প্রদানকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবস্থাটি রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যথায় নতুন ভ্যাটহার যেন ট্যারিফ ব্যবস্থায় যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তার চাইতে যেন বেশি না হয় - সে  দাবিও তাদের। এ লক্ষ্যে এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেন-দরবার করে আসছিলেন তারা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা বর্তমানে প্রতিকেজি সুতায় ২০ টাকা ট্যারিফ ভ্যালু হিসাব করে এর উপর ১৫ শতাংশ হিসেবে ৩ টাকা ভ্যাট প্রদান করি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী মহোদয় ট্যারিফ উঠে গেলে অন্য ব্যবস্থায়ও এ পরিমাণ অর্থই আদায় করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। আমরা আশা করছি, যে ব্যবস্থাই থাকুক - বর্তমানের চাইতে বেশি ভ্যাট দিতে হবে না।

বিটিএমএ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি কেজি সুতার দর তিন ডলার হিসেবে প্রায় আাাড়ইশ টাকা। এর উপর যদি দুই শতাংশ ভ্যাট হয়, তাহলে ভ্যাটের পরিমাণ হবে বর্তমানের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া ইস্যুটি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে স্টিল খাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ ইত্তেফাককে বলেন, এখন ট্যারিফ ব্যবস্থায় প্রতিটন রডে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয় ৪৫০ টাকা। দুই শতাংশ ভ্যাট হলে তা এই ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২শ টাকায়। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে এখন স্ক্র্যাপের উপর কোনো ভ্যাট নেই। এ খাতে ভ্যাট আরোপ হলে সরবরাহ পর্যায়েও ভ্যাটের পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। অবশ্য অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে ট্যারিফ ব্যবস্থায় যে পরিমাণ ভ্যাট দেওয়া হচ্ছে, এটি উঠে যাওয়ার পর স্পেসিফিক ভ্যাট ব্যবস্থায়ও এর কাছাকাছিই রাখার চেষ্টা চলছে।