নেত্রকোনা ও বরিশালে দুই গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ২২:৫৩

নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও বরিশালের হিজলায় দুই গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বরিশালে পৃথক ঘটনায় আরেক স্কুলছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা :নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক পোশাককর্মী। এ ঘটনায় তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের রঙ্গ মিয়ার ছেলে টিপু মিয়া, একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আমির হামজা ও সবুজ মিয়ার ছেলে আনোয়ার। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে টিপু মিয়াকে শনিবার সকালে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বিকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এ ঘটনায় থানা প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিং করেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্ষিত নারীর স্বামী ‘সুমন’ আসলে নূরে আলম। তিনি বৈরাটি গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে শম্ভু মিয়ার ছেলে। নূরে আলম তার পরিচয় গোপন করে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ধর্ষিত নারী ও নূরে আলম দুজনই বিবাহিত এবং তাদের সন্তানও রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিন ধর্ষকই জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জানিয়ে ওসি বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারীই হলো কথিত স্বামী নূরে আলম ওরফে সুমন। দুজনই গাজীপুরে বসবাস করার সুবাদে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নূরে আলম প্রতারণার মাধ্যমে ওই নারীকে বিয়ে করেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারা দুজনই নিজ নিজ বাড়িতে এসে বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে বের হন। তবে বেড়াতে বের হওয়ার আগেই ধর্ষকদের সঙ্গে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন নূরে আলম। পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দুয়া-মদন সড়কের     শাপলা ব্রিকস ইটখলা এলাকায় মোটরসাইকেলটি বিকল হয়ে গেছে বলে গাড়ি থামিয়ে কৌশলে ওই নারীকে ইটখলার ভিতরে নিয়ে গিয়ে কথিত স্বামীর সামনেই পালাক্রমে ধর্ষণ করেন টিপু, আমির হামজা ও আনোয়ার। পুলিশ জানায় নূরে আলমকে গ্রেফতারের জোর তত্পরতা চলছে।

বরিশাল অফিস ও হিজলা সংবাদদাতা : বরিশালের হিজলায় পরকীয়া প্রেমিককে মারধর করে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার একতা বাজার এলাকাধীন সাহাবুদ্দিন চৌধুরী পাড়ায় তারা ঘুরতে আসলে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজলা থানা পুলিশ ওই গৃহবধূ ও তার পরকীয়া প্রেমিককে উদ্ধার করে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মামুন নামের এক কিশোরকে আটক করেছে তারা। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন হিজলা থানার ওসি মাসুদুর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সি গৃহবধূর বাড়ি হিজলা উপজেলার পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জের ধুলিয়া মধ্য চর গ্রামে। শুক্রবার দুপুরে তিনি তার পরকীয়া প্রেমিক বরগুনার আমতলী উপজেলার মৌপাড়া এলাকার ছোট বগি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে অটোরিকশা চালক জাকির হোসেন গোলন্দাজের সঙ্গে হিজলার সাহাবুদ্দিন চৌধুরী পাড়ায় ঘুরতে যান। সেখানে তাদের আচরণ দেখে স্থানীয় একদল বখাটে পরকীয়ার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং প্রেমিক জাকির হোসেনকে মারধর করে গৃহবধূকে একই এলাকার একটি বাগানের ভেতর নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বরিশাল অফিস আরো জানায়, নগরীর ১০নং ওয়ার্ড বালুর মাঠ (কেডিসি কলোনির) ভেতরে শহীদ আলতাফ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে ছাত্রীর বাবা বাবুল ফরাজী। তিনি বলেন, তার মেয়ে নানির বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে পার্শ্ববর্তী এলাকার মাসুম হাওলাদার তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে নিজ ঘরের মধ্যে নিয়ে তার মেয়ের হাত-পা বেঁধে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তাকে প্রচণ্ড মারধর করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম ঐ এলাকায় গেলে মাসুম ও তার মা-বোন বাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের জবানবন্দি নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী মাসুমসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।