বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি 

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ২০:২৬

চট্টগ্রামে কয়েকদিন টানা বর্ষণের পর বুধবার (২২ জুন) তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নগরীর কিছু এলাকায় জমে থাকা পানি নামতে শুরু করেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই জেলা ও নগরীতে তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার এমন সংবাদে নগরবাসীর মধ্যে খানিকটা স্বস্তি ফিরে এলেও নতুন ভোগান্তির জন্ম দিয়েছে কাদা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাঘাট, মানুষের বাসাবাড়ি, ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক, গাড়ির গ্যারেজসহ নানা জায়গায় কাদা দেখা যাচ্ছে। কাদার কারণে রিকশা, ট্যাক্সিসহ কোনো যানবাহন ওইসব এলাকায় যেতে চায় না। এতে কর্মস্থলে যেতে সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেননি। চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকাসহ অন্যান্য নিচু এলাকার বাসিন্দারা বাসাবাড়ির ময়লা পানি ও কাদা পরিষ্কার করার কাজেই দিন পার করেছেন। কোনো কোনো এলাকায় মসজিদে কাদাপানি থাকায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেননি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা ধরনের পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। কয়েকটি বাসায় গোসল ও রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। 

গতকাল কাপাসগোলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি বাসায় ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক ময়লা পানি ও কাদায় ভরে গেছে। এনাম নামে এক বাড়িওয়ালা জানান, পানির রিজার্ভ ট্যাংকে কাদা থাকায় গত তিনদিন ধরে ওয়াসার পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য পাইপ ফিটারের দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে মিস্ত্রি আনতে হয়েছে। কাতালগঞ্জ এলাকার একাধিক বাড়িতে দেখা যায় বৃষ্টির পানি ঢুকে গ্যারেজে রাখা গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো বাসার জেনারেটর, আইপিএস, পানির মটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেছে। গত সোমবার কাতালগঞ্জের একটি বাসায় আইপিএস খুলতে গিয়ে দু’জন নিহত হন।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের কয়েকটি গুদামের পণ্য পানিতে নষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির জন্য কাজে যেতে না পারায় নগরীর বিভিন্ন বস্তির হতদরিদ্র পরিবারগুলো আর্থিক অনটনে পড়েছে।      

চট্টগ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা ভারী বর্ষণের রূপ নেয় পরদিন শুক্রবার থেকে। শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। নগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায় পানির নিচে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে ৫ জন নিহত হন।

ইত্তেফাক/মাহি