বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সেন্ট লুসিয়ায় সাকিবরা

প্রেরণা হতে পারে ১৮ বছর আগের স্মৃতি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১৮:৫২

অ্যান্টিগা ছেড়ে গতকালই সেন্ট লুসিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে সফরের শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে পড়েছে সফরকারীরা। আগামীকাল (২৪ জুন) সেন্ট লুসিয়ার ড্রারেন স্যামি স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

সিরিজ হার এড়াতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। সিরিজে সমতা ফেরাতে দলগতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে সাকিব আল হাসানের দলকে। ড্রারেন স্যামি স্টেডিয়ামে খেলতে নামার আগে দুদিন অনুশীলন করবেন টাইগাররা। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম সেন্ট লুসিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

নিজেদের ইতিহাসে সেন্ট লুসিয়ায় এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ ২০১৪ সালে খেলা ম্যাচে টাইগারদের সময়টা ভালো কাটেনি। ক্যারিবীয়দের কাছে ২৯৬ রানে হারতে হয়েছিল।

তবে এই মাঠে বাংলাদেশের উল্লেখ করার মতো সুখস্মৃতি রয়েছে। ১৮ বছর আগে (২০০৪ সালে) ব্রায়ান লারার নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে গৌরবময় ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে উইন্ডিজদের চমকে দিয়েছিল টাইগাররা। দুই ইনিংসে বাংলাদেশের তিন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক হাবিবুলের সঙ্গে মোহাম্মদ রফিক ও দ্বিতীয় ইনিংসে খালেদ মাসুদ পাইলট সেঞ্চুরি করেছিলেন।

প্রথম ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি ও আশরাফুলের হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪১৬ রান তুলেছিল। তিন নম্বরে হাবিবুল ১১৩, পাঁচে নামা আশরাফুল ৮১ এবং নয় নম্বরে নেমে রফিক ১১১ রান করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের লিড পেয়েছিল হাবিবুল বাহিনী। ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরি, লারার হাফ সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৩৫২ রানে অলআউট হয়েছিল। মুশফিকুর রহমান বাবু ৪টি, রফিক ৩টি ও তাপস বৈশ্য ২টি উইকেট পেয়েছিলেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেন পাইলট। রাজিন সালেহের হাফ সেঞ্চুরির পর আটে নেমে সেঞ্চুরি করেন পাইলট। তিনি অপরাজিত ১০৩ রান করেন। রফিক, তাপস বৈশ্যও তাকে ভালো সঙ্গ দিয়েছিলেন। পঞ্চম দিনের চা বিরতির পর বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৭১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছিল।

পরে জয়ের জন্য ক্যারিবিয়ানদের টার্গেট দাঁড়ায় ৩৩৬ রান। এক সেশনেরও কম সময়ে সেটি পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের। ২৩ ওভারে বিনা উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৩ রান তুলতেই ম্যাচ ড্র মেনে নেয় দুই দল। রোমাঞ্চকর সময়টা হয়তো ১৮ বছর আগের, কিন্তু ভেন্যু তো সেন্ট লুসিয়াই। এখন অগ্রজ হাবিবুল, রফিকদের কীর্তি থেকে প্রেরণা নিয়ে সাকিব-তামিমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

ইত্তেফাক/টিএ