মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গরু-মহিষ নিয়ে দ্বন্দ্ব গড়ালো হাইকোর্টে

  • সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের সালিশে অবশেষে বিবাদ মিটলো জামাই-শ্বশুরের
আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ২০:০৩

এক দশক আগে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আবদুল অদুদ যান বিদেশে। সেখানে যাওয়ার আগে তার কেনা মহিষ ও গরু লালন-পালনের জন্য দিয়েছিলেন শ্বশুরকে। লালন পালনের পর গবাদি পশুগুলো সংখ্যায় বেড়েছে। এক দশক পর বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন অদুদ। ফেরত চান তার গবাদি পশুগুলো। কিন্তু সেগুলো দিতে অস্বীকৃতি জানান শ্বশুর নূর মোহাম্মদ। তদন্তের পর দায়রা আদালতের সিদ্ধান্ত যায় জামাই অদুদের পক্ষে। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন শ্বশুর। মামলার বিষয়বস্তু শোনার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে চলা সালিশ বৈঠকের পরই বিরোধ নিষ্পত্তি হয় জামাই-শ্বশুরের। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭টি মহিষের মধ্যে ৫টি বড় ও ৪টি ছোট মহিষ পাবে অদুদ। আর ৬টি বড় ও ২টি ছোট মহিষ নেবেন শ্বশুর। বিরোধ নিষ্পত্তির এই সিদ্ধান্ত এখন অবহিত করা হবে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে। ব্যতিক্রমধর্মী এ মামলা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার খোরাক যোগায়।

প্রসঙ্গত, চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান অদুদ। তার স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। বিদেশ যাওয়ার আগে স্বামীর কেনা ৮টি মহিষ ও ৫টি গরু লালন-পালনের জন্য কহিনুর বেগম তার বাবা নূর মোহাম্মদকে দেন। ৫টি গরু ও ৮টি মহিষ বাছুরসহ ৭টি গরু ও ২০টি মহিষে পরিণত হয়। ১১ বছর চাকরির পর ২০১৯ সালে দেশে ফেরেন অদুদ। দেশে আসার পর গবাদি পশুগুলো ফেরত চাইলে নূর মোহাম্মদ ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর সেগুলো উদ্ধারের জন্য লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা করেন তিনি। 

হাইকোর্ট।

মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দেয় রামগতি থানা পুলিশ। একইসঙ্গে গবাদি পশুগুলোও উদ্ধার করে জিম্মায় নেয় পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গরু ও মহিষ নিজের দাবি করে আদালতে আবেদন করেন নূর মোহাম্মদ। এরপর প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের জন্য আদালতের আদেশে চরকলাকোপা কারামতিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত বছরের পহেলা ডিসেম্বর গবাদি পশুগুলো জামাই অদুদের জিম্মায় দিতে আদেশ দেন আদালত। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আবেদন করেন শ্বশুর। লক্ষ্মীপুরের দায়রা জজ মো. রহিবুল ইসলাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।

হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন শ্বশুর। এরপরই হাইকোর্ট বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর বেলা ২ টা থেকে বিবাদমান দুই পক্ষ ও তাদের আইনজীবীদের নিয়ে সালিশে বসে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা জজ ফারাহ মামুন ও সমন্বয়কারী রিপন পৌল স্কু। বৈঠকে দুই পক্ষই তাদের মতামত তুলে ধরেন। 

অতিরিক্ত জেলা জজ ফারাহ মামুন বলেন, পরিবারের মধ্যে এর চেয়েও জটিল বিষয় নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হয়। কিন্তু মামলা মোকদ্দমা কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না। শুধুই বিরোধই জিইয়ে রাখে না অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা চাই আপনারা মামলা মোকদ্দমা থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধ মীমাংসা করে ফেলুন। এরপরই উভয় পক্ষ থেকে দেওয়া নানা প্রস্তাব যোজন-বিয়োজনের পর মীমাংসায় উপনীত হয় দুই পক্ষ। হাসি ফুটে জামাই-শ্বশুরের মুখে।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ

অকটেন, পেট্রলের মূল্য ও রফতানি নিয়ে বিতর্ক কেন?

লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি, ওয়ার্কিং কমিটি গঠন

কোন রুটে কত ভাড়া

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে রিট

সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের গুরুত্ব অপরিসীম: কৃষিমন্ত্রী

জাতীয় শোক দিবসে সরকারি কর্মসূচি

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রশ্নে রুল