শেষ ভালো যার সব ভালো তার 

আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ০৭:৩১

দেশ ও দেশের অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর প্রভাব অনেক রকম হবে। মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখনো অনেক গরিব। পদ্মা সেতু ঐ এলাকার দারিদ্র্য দূর করতে বড় অবদান রাখবে। কানেকটিভিটি তৈরি হচ্ছে। কুয়াকাটার সঙ্গে হচ্ছে, মোংলার সঙ্গে করছে, বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে করছে, খুলনার সঙ্গে করছে, পায়রাবন্দরের সঙ্গে হচ্ছে। সড়ক উন্নয়নের ব্যাপক কাজ চলছে। একটি সেতুও হয়ে গেছে। আরো একটি হচ্ছে। মোংলা ইপিজেড-শিল্পাঞ্চল সেটি তো আছেই। প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি পেতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, সেতুকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে। ইতিমধ্যে সেটা দেখাও যাচ্ছে।

পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমাদের আশা ছিল সেতুটি হয়তো আরো আগেই হয়ে যাবে, সেটি হয়নি। তবে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। শেষ পর্যন্ত সেতুটি হচ্ছে—এটিই দেশের জন্য বড় একটি খবর। দেশীয় অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় হয়তো সেতুর টোল রেট বেশি হবে। যদি টোল নির্ধারণ বেশি করা হয়, তাহলে পদ্মা সেতুর প্রকৃত সুফল দেশের মানুষ পাবে না। সেজন্য আমি আশা করব, সরকার পদ্মা সেতুর টোল সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করবে। অবশ্য অন্যান্য সেতুর তুলনায় টোল কিছুটা বেশি হলেও পুষিয়ে যাবে সময় কম লাগার ক্ষেত্রে। কারণ এখন পদ্মা নদী পার হয়ে যাতায়াতে যত সময় লাগে, পদ্মা সেতু হয়ে গেলে সময় অনেক কম লাগবে—এটা একটা ভালো দিক।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে যেসব অবকাঠামো গড়ে উঠছে, এখানেও শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। তবে এটা পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি সব হয়ে যাবে না। এখন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে, এটা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে হয়তো পাঁচ-ছয় বছর লাগবে। তবে যেসব অর্থনৈতিক জোন এসব অঞ্চলে গড়ে উঠেছে, সেগুলো উত্পাদনে যাওয়ার মতো জায়গা নিয়ে যেতে হবে।

লেখক: পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

ইত্তেফাক/এএইচপি