শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রফাদফায় জেলেদের ছেড়ে দেয় নৌ-পুলিশ!

আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ০১:৪৫

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আগুনমুখা নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই ট্রলারসহ জেলে আটক করে নৌ-পুলিশ। পরে মাঝনদীতে দুই ঘণ্টা অবস্থান করে তারা। এর মধ্যে হয় রফাদফা। পরে ট্রলারসহ ছেড়ে দেওয়া হয় জেলেদের। শুক্রবার রাতে উপজেলার আগুনমুখা নদীসংলগ্ন কোড়ালিয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও নদীতে অভিযানের নামে রফাদফা করে জেলে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জেলে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আগুনমুখা নদীসংলগ্ন কোড়ালিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় নৌ-পুলিশ। পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোমেনুরের (মমিন) নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কোড়ালিয়া ঘাটে থাকা সুমন জোমাদ্দার ও রাজু হাওলাদারের ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় কয়েক জন জেলেকে। উপস্থিত কয়েক জনের কেউ বলছে, আটক করা হয় পাঁচজনকে। কেউ বলছে, আটক করা হয় ১১ জনকে। জেলেদের হ্যান্ডকাফও পরানো হয় বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মালিক।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েক জন সংবাদকর্মী জানান, আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোড়ালিয়া ঘাটে অবস্থান করে নৌ-পুলিশের টিম। এর মাঝে দুই মৎস্য আড়তের তালা ভাঙতেও চান তারা। পরে কাওসার নামের স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর মধ্যস্থতায় নৌ-পুলিশের সঙ্গে হয় রফাদফা। ছেড়ে দেওয়া হয় ট্রলারসহ আটক হওয়া জেলেদের। ট্রলারসহ জেলেদের আটক করা এবং ছেড়ে দেওয়ার এ ঘটনার অংশ বিশেষের ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

ঐ রাতে আটক হওয়া এক ট্রলারের মালিক জানান, ‘দুই ট্রলারে ১০ জন জেলে ছিল। কয়টা কাটা মাছ ছিল নিয়ে গেছে। স্টাফেরে (জেলে) হ্যান্ডকাফ পরাইছে। ২০ হাজার করে দুই ট্রলারে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মৎস্য আড়ত মালিকরা এ টাকা দিয়ে আমাদের ছাড়িয়ে রেখেছে।’

পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোমেনুর (মমিন) বলেন, ‘অভিযানে আসছিলাম। জেলেতো ধরতে পারি নাই। ওরা যে আড়তে দিছিল, ওই আড়তে গেছিলাম বন্ধ পাইছি। পরে মৎস্য অফিসারকে ফোন দিলাম, উনি ফোন রিসিভ করেন নাই। আর নৌকায় যারা ছিল, ওরা এই ফাঁকে চলে গেছে।’ রফাদফার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, ‘এরকম কোনো তথ্য নেই।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি অভিযান করার আগে আমাদের জানান অথবা আমাদের সঙ্গে নিন। অন্তত অভিযানের ফলাফলটা জানান। কিন্তু তারা তাদের মতো করছে। এখন ফোন করলে বলবে আমরা তো যাইনি। এই জায়গায় তো (নদীতে) আসার কথা না। যাবে সাগরে। আমি তাদেরকে মৌডুবিসহ আশপাশে টহল জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছি পরশু। কিন্তু তবুও তারা তো কোড়ালিয়া নদীতে আসল। আমাদের কথা শুনল না।’

শুধু এরকম একটি ঘটনা নয়, এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে। ১৫-১৬ দিন আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার চরমোন্তাজের একাধিক জেলে জানান, ‘সোনারচর, আন্ডারচর ও বউবাজারসহ আশপাশ এলাকায় নৌ-পুলিশ অভিযানের নামে জেলেদের আটক করে টাকা নিয়েছে। বিকাশে এবং নগদে টাকা নিয়ে ছেড়েছে। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে।’ তবে তখন কোন এলাকার নৌ-পুলিশ এ অভিযান চালিয়েছে, তা বলতে পারেননি জেলেরা।

ইত্তেফাক/ইআ