সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অন্যের বাড়িতে থাকেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক 

আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ১৩:৫৫

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামসুল হক (৭৮)। নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি একজন অসচ্ছল মানুষ। তার স্ত্রীও একজন প্রতিবন্ধী। তার অভিযোগ, তিনি পরের বাড়িতে থাকেন, একটা থাকার ঘরও নেই।’

সামসুল হকের ভারতীয় তালিকা নং-৩৭৭৯, লাল মুক্তিবার্তা নং-১০৫০২০০০৫, গেজেট নং-১৮০৭। তিনি লিখিত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন অসচ্ছল, ভূমিহীন, অসুস্থ, আমার স্ত্রী বিউটি বেগম সেও একজন প্রতিবন্ধী। প্রায় দেড় বছর আগে আমি সুজাতপুর গ্রামে এসে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করি। অর্থের অভাবে বাড়ি নির্মাণ করতে পারিনি। বর্তমানে সুজাতপুর গ্রামে মাওলানা আবদুল কবিরের বাড়িতে বসবাস করিতেছি।’

তার জয়নগর ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ঘর পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই তালিকায় আমার নাম নেই। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে আবাসন প্রকল্পের আমার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ জন  মুক্তিযোদ্ধার একটি নামের তালিকা হয়। সেই তালিকায়ও আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় নাই। বর্তমান যেসব মুক্তিযোদ্ধার ঘরের তালিকায় নাম আছে, সবাই সচ্ছল, প্রত্যেকেরই বাড়িঘর ও জমি জমা আছে। দ্বিতীয়বারের তালিকায়ও আসে নাই আমার নাম।’ 
উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাদিম সরকার বলেন, ‘আমি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।’

শিবপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বীর নিবাসের যাচাই-বাচাই ও ট্যাগ অফিসার শিকদার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আজিজুর রহমান খান বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার বীর নিবাসের তালিকা করা উচিত।’

শিবপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার ঘরের আবেদনের বিষয়ে আমি অবগত।’ 

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনিয়া জিন্নাত বলেন, ‘পরবর্তী তালিকায় নাম দেওয়া হবে। বিষয়টির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/মাহি