শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে অটোরিকশা-ভ্যান চালকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ 

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১৮:৪১

সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভ্যান থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে অটোরিকশা চালকরা। এসময় অটোরিক্সা ও ভ্যান চালকদের সঙ্গে পুলিশের দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়।

জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে অটোরিকশা ও ভ্যানচালকেরা গত শনিবার থেকে মহাসড়কে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শতশত রিকশা-ভ্যান চালকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা সড়কে ইলেকট্রিক পোল ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালকরা পুরাতন টায়ার ও গাছের ডাল ফেলে মহাসড়কের মাঝে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। 

এসময় মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করতে গেলে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পুলিশ তাদের প্রতিহত করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীরা ছুটোছুটি  করতে থাকে। সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী অটোরিকশা চালকরা জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা পেলেই হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে বড় অটোরিকশা থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা ও ছোট অটোরিকশা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। কোনো কোনো অটোরিকশা চালককে মাসে একাধিকবারও জরিমানার টাকা দিতে হয়। 

তাদের অভিযোগ, পুলিশ জরিমানার কথা বলে এই টাকা আদায় করলেও তা রিকসা চালকদের পরিশোধ করতে হয় হাইওয়ে থানার পাশে এক চায়ের দোকানে। তাই বিষয়টি পুলিশের চাঁদাবাজি উল্লেখ করে তা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। 

রিকসা চালক সবুজ মিয়া বলেন, অনেক সময় তারা মহাসড়কে না উঠলেও ভিতরের শাখা রাস্তা থেকে পুলিশ জোরপূর্বক গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করে গাড়ি ছেড়ে দেয়। আগে পুলিশের লোক টাকা নিলেও নতুন নিয়ম করেছে হাইওয়ে থানার পাশে এক চায়ের দোকানে সেই টাকা দিতে হয়'।

তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ, রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। আমরাতো চুরি-ডাকাতি করি না। তাহলে কেন আমাদের এভাবে হয়রানি করা হয়। আমরাই কেবল জানি এই জরিমানার টাকা তুলতে আমাদের  কি পরিমাণ কষ্ট হয়, বউ-বাচ্চার জন্য বাজার না করে এই টাকা আমাদের পরিশোধ করতে হয়।

আন্দোলনকারী রিকশাচালকরা আরও অভিযোগ করেন, আমিনবাজার থেকে চন্দ্রা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর পর্যন্ত দুটি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও আমাদের রিকসা আটক করে থাকে। পরে কিছু রিকসা থেকে রেকার বিলের নাম করে চাঁদা আদায় করা এবং কিছু রিকসা কমিউনিটি পুলিশ ও তাদের সোর্সরা টাকা আদায় করে রিকসাগুলো ছেড়ে দেয়। কিন্তু তাদের কোন প্রকার জরিমানার রশিদ প্রদান করা হয় না।

রিকশাচালকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে, সাভার হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, রিকসা চালকদের একটি গ্রুপ সংগঠিত হয়ে আন্দোলন করছে। তবে তারা যেই দাবিগুলো করছে তা ভিত্তিহীন। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা মহাসড়কে অটোরিকশা পেলে তা আটক করি এবং ২৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় যা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নেই।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি