নৃত্যনাট্যে প্রেম-বিরহের লোকজ আখ্যান

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ০০:২১

শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার (২৭ জুন) আয়োজন করা হয়েছিল নৃত্যনাট্য উৎসবের। বাংলার ইতিহাসে নৃত্যনাট্যের অবস্থান বেশ সমৃদ্ধ। উৎসবের বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৃত্যনাট্যগুলোর মধ্য থেকে চারটি উপস্থাপন করা হয়।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মঞ্চে গতকাল উপস্থাপন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তরুণ ছদ্মনামে রচিত ভানুসিংহের পদাবলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাপমোচন, পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ ও দ্বিজ কানাইয়ের বিখ্যাত নৃত্যনাট্য ‘মহুয়া’। শিল্পীদের বর্ণিল উপস্থাপনায় মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। নৃত্যনাট্য গীতিনির্ভর নাট্যধর্মী নৃত্য। কাহিনীকে অবলম্বন করে এ নৃত্য নির্মিত হয়।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে গীতবাদ্য সংবলিত নৃত্যচর্চার উল্লেখ আছে, আধুনিককালে যাকে বলা হয় নৃত্যনাট্য। রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাগায়ক জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ এমনই একটি গীত-বাদ্য-নৃত্য-বহুল রচনা। পরবর্তীকালে নৃত্যনাট্যের এই ধারার বিলুপ্তি ঘটে। আধুনিক কালে নৃত্যনাট্য বলতে যা বোঝায় তার প্রধান স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পাশাপাশি বাংলার লোক কবিদের রচনায়ও উঠে এসেছে নৃত্যনাট্য।

উৎসবের প্রথম পরিবেশনা ছিল ভানুসিংহের পদাবলী। নৃত্যদল ভাবনা সামিনা হোসেন প্রেমার পরিচালনায় মঞ্চস্থ করে এই নৃত্যনাট্যটি। যাতে উঠে আসে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী। ভানুসিংহ পদাবলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রজবুলি ভাষায় রচনা করেন। একে নৃত্যনাট্যে রূপ দিয়েছিলেন সংগীতসাধক শৈলজারঞ্জন মজুমদার। রবীন্দ্রনাথ কৈশোর ও প্রথম যৌবনে ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে বৈষ্ণব কবিদের অনুকরণে কিছু পদ রচনা করেছিলেন। পরবর্তী প্রযোজনাটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাপমোচন’। এ নৃত্যনাট্যে দর্শকদের সামনে উঠে আসে অরুণেশ্বর ও কমলিকার প্রেম-বিরহের ঘটনাপ্রবাহ। পরিবেশনাটি উপস্থাপন করেন পল্লবী ডান্স সেন্টার। পরিচালনা করেন নৃত্যশিল্পী মিনু হক।

দ্বিজ কানাই রচিত নৃত্যনাট্য মহুয়া পরিবেশন করে নন্দন কলাকেন্দ্র। পরিচালনায় ছিলেন এম আর ওয়াসেক। সবশেষে উপস্থাপিত হয় পল্লিকবি জসীম উদ্দীন রচিত নৃত্যনাট্য নকশী কাঁথার মাঠ।

ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় এটি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস। উৎসবের শুরুতে ছিল সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্ব। এতে অলোচনা করেন নৃত্যশিল্পী মিনু হক ও নিগার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক সোহাইলা আফসানা ইকো।

 
 
ইত্তেফাক/এসজেড