মিরসরাইয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ০৩:৪৫

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া সরকারি উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে মিরসরাইয়ে চরম হয়রানির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের উপজেলায় কোনো গ্রাহক সেবা অফিস না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সেলস্ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ভিড় করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী সরকারি উপবৃত্তির টাকা পান। যার ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, টাকা উত্তোলনের জন্য গোপন পিন দিলে ‘ডিড নট ম্যাচ’ লেখা আসছে। আগে ব্যবহৃত গোপন পিন অটোতেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। নতুন গোপন পিন সেট করতে চাইলে তাও কাজ হচ্ছে না। জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে নগদের (কাস্টমার কেয়ার) গ্রাহক সেবা ১৬১৬৭ নম্বরে কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

মিরসরাই পৌরসভায় অবস্থিত নগদ সেলস ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থান হতে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছেন অভিযোগ জানাতে। অভিভাবকরা সমস্যার সমাধান না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, তার মেয়ে নাহিদা আক্তার দক্ষিণ আমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। তার উপবৃত্তির টাকা উঠাতে নগদ এজেন্টে গেলে পিন ভুল হয়েছে ম্যাসেজ আসে। উপজেলায় নগদের অফিসে দুই দিন আসলেও কোনো সমাধান পাননি।

উপজেলার খইয়াছড়া গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, তার মেয়ে ফারিয়া বিন হাসনাত মসজিদিয়া ভূঁইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। মোবাইলে মেয়ের টাকা আসার মেসেজ আসলেও পিনের সমস্যার কারণে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। মিরসরাই সদরের নগদ অফিসে গত কয়েক দিন এসেও কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি আরো বলেন, আগের ব্যবহৃত গোপন পিন অটোতেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। নতুন পিন সেট করতে চাইলে তাও কাজ হচ্ছে না। নগদের কাস্টমার কেয়ারের গ্রাহক সেবা ১৬১৬৭ নাম্বরে কল দিয়েও লাইন পাওয়া যায় না। বাড়ি থেকে মিরসরাই আসতে প্রতিদিন ৫০-৬০ টাকা খরচ হয়ে যায়। নগদের মিরসরাই সেলস ডিস্ট্রিবিউটর দায়িত্বে থাকা হাক্কানী লজিস্টিকের জেনারেল ম্যানেজার ইরফান মিয়া বলেন, গ্রাহকরা দীর্ঘদিন নগদে লেনদেন না করাতে পিন নাম্বার ভুলে গেছেন। কয়েক বার পিন দিলে তা রিসেট হয়ে যাচ্ছে। মিরসরাইতে নগদের কোনো কাস্টমার কেয়ার নেই। মিরসরাই সদরে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান আছে। আরো দুটি স্থাপনের কাজ চলছে। টাকা তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ প্রায় ৯০ শতাংশ সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলার মধ্য তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন, উপজেলার ১৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ অভিভাবক পিন নাম্বার ভুলে যাওয়াতে মূলত এ সমস্যা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থী টাকা তুলতে পারেনি তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, উপজেলায় প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পান। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেকের সমস্যা সমাধান হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তাদের মোবাইল নাম্বার জমা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ