শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মির্জাপুরের কাঁঠাল যাচ্ছে অন্য জেলায়, ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা 

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১০:০৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাহাড়ি অঞ্চলের হাট-বাজারে স্থানীয় জাতের উৎপাদিত উন্নত জাতের সুস্বাদু কাঁঠাল বিক্রির ধুম পড়েছে। ভালো দাম পেয়ে এলাকার কাঁঠাল চাষি ও কৃষরা খুশি। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ক্রেতারা মির্জাপুর উপজেলার হাট-বাজারে কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছেন। 

এদিকে, সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে কাঁঠাল সংগ্রহের জন্য কোনো হিমাগার গড়ে না উঠায় সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার টন কাঁঠাল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। ফলে এলাকার প্রান্তিক কাঁঠাল চাষিরা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েন।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল ও তক্তারচালা বাজারের বৃহৎ কাঁঠালের হাটে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঁঠাল চাষি ও কৃষকরা কাঁঠাল বিক্রির জন্য ভ্যান, রিকশা মহিষের গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে শত শত কাঁঠাল বিক্রির জন্য আসছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলার গোড়াই, আজগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে পাহাড়ি এলাকায় সর্বাধিক কাঁঠাল হয়েছে। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালের কোনো অনুমোদিত জাত না থাকলেও কোষের বৈশিষ্ঠ্য অনুসারে স্থানীয় উন্নত জাত, খাঁজা, আদরসা ও গালা চার প্রকার কাঁঠাল মির্জাপুর উপজেলায় চাষ হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক এবং কাঁঠাল সংগ্রহের জন্য কোনো হিমাগার গড়ে না ওঠায় প্রতি বছর হাজার হাজার টন কাঁঠাল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মির্জাপুরে বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা উৎপাদিত কাঁঠালের দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর গ্রামের চাষি লিয়াকত মিয়া (৫০), তালতলা গ্রামের ময়েজ উদ্দিনসহ (৫৬) অনেকেই জানান, বড় সাইজের কাঁঠাল ৯০-১২০ টাকা, মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৪০-৬০ টাকা এবং ছোট সাইজের কাঁঠাল ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছে। এ বছর কাঁঠালের দাম বেশ ভালো বলে তারা জানিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মালিকসহ ব্যক্তি উদ্যোগে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে কাঁঠাল সংগ্রহের জন্য হিমাগার গড়ে তোলা হলে সরকারও রাজস্ব পাবে, তেমনি এলাকার কৃষকরাও উৎপাদিত কাঁঠালের ভালো দাম পাবেন বলে জানিয়েছেন। 

এদিকে, উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এই কাঁঠাল টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় দেশের সর্বাধিক কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। কাঁঠালের মধ্যে নানা গুণাগুণ রয়েছে। এতে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ রয়েছে। কাঁচা ফল তরকারি, পাকলে ফল এবং বীজ ময়দা ও তরকারি হিসেবে এবং বীজ পুড়িয়েও খাওয়া যায়। কাঁঠালের কোষ ও বীজ চীন দেশে বলবর্ধক হিসেবে ব্যবহার হয়। শেকড়ের রস জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কাঁঠাল চাষে উৎসাহিত করার জন্য এলাকার কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আগামীতে কাঁঠালের আবাদ ভালো হলে কৃষি বিভাগ থেকে এলাকার চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/মাহি