সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘আইসিইউ’তে তিতুমীর কলেজের চিকিৎসা কেন্দ্র

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১৩:৫৫

শহীদ বরকত মিলনায়তনের প্রবেশদ্বারের পাশেই জীর্ণশীর্ণ একটি নামফলক। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই কী লেখা সেখানে। কাছে যেতেই দেখা মিললো ‘চিকিৎসা কেন্দ্র’ তার নিচে লেখা সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। 

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকার স্বনামধন্য সাত কলেজের একটি। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজটিতে রয়েছে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র। কিন্তু ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসা কেন্দ্র শুধু নামফলকেই সীমাবদ্ধ। ঢাকার স্বনামধন্য এই কলেজটির চিকিৎসা কেন্দ্রের অবস্থা এতটাই নাজুক যে মৃত প্রায়, অবহেলিত ও জরাজীর্ণ এই নামফলক দেখলে যে-কেউ ভাবতেই পারেন এ যেন স্বয়ং চিকিৎসা কেন্দ্রই ‘আইসিইউতে’!

চিকিৎসা সেবা তো দূরের কথা। প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র ও সরঞ্জামও নেই সেখানে। এমনকি নামফলক থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রবেশের দরজা। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ ক্যাম্পাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক সেবাটুকুও নিতে পারছেন না এই চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। 

সরেজমিনে নামফলকের পাশে একটি কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেলেও সেটি আদৌও কি চিকিৎসা কেন্দ্রের দরজা কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। কারণ অনেকেই বলেছেন এই দরজা নাকি অডিটোরিয়ামের মঞ্চে উঠার কাজে ব্যবহৃত হয়, আবার অনেকে বলছেন, কখনো এই দরজা খোলা হয় না, এমনকি চিকিৎসাসেবা নিতেও কখনো কাউকে আসতে দেখেননি এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কিংবা পরিচালকের কোনো খোঁজ মেলেনি সেখানে গিয়ে। 

এদিকে, উপাধ্যক্ষর রুমে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ‘ফাস্ট এইড বক্স’ থাকলেও সেটা সম্পর্কে জানেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাসেবা নিতে হয় বাইরের হাসপাতালে। 

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের চাওয়া-পাওয়ার অন্যতম একটি দাবি হলো পুনরায় চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করা। কিন্তু এরপরও এব্যাপারে টনক নড়ছে না কলেজ প্রশাসনের। 

কলেজ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও কখনো অসুস্থ হয়ে প্রাথমিক সেবাটুকু নিতে পারেননি চতুর্থ বর্ষের আবদুল্লাহ আল রাফি। তিনি বলেন, ‘আমি ৫ বছর ধরে ক্যাম্পাসে আছি। প্রায় সময়ই আমিসহ আমার সহপাঠীরা অসুস্থ হয়েছি কিন্তু কলেজে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের অভাবে তাৎক্ষণিক কোনো চিকিৎসা পাইনি।’ 

রাফি বলেন, ‘প্রতিদিনই কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছেন কিন্তু প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেওয়ারও ব্যবস্থা নেই। এত বড় একটি কলেজে চিকিৎসা কেন্দ্র নেই, তা দুঃখজনক। অনেক আগে ছিল কিন্তু এখন শুধু নামফলক আছে, চিকিৎসাসেবা নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলে এটার সমাধান করতে পারেন অথচ প্রশাসনের আন্তরিকতা দেখছি না। চিকিৎসা কেন্দ্র খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’

কলেজের চিকিৎসা কেন্দ্রের বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর তালাত সুলতানা বলেন, ‘অনেক বছর থেকে এটি নেই, আমি এখানে জয়েন করার পর একজন মহিলা ডাক্তার দেখেছিলাম কিন্তু তারপরেই তিনি চলে যান। এরপর থেকেই এটি বন্ধ রয়েছে।’ 

পুনরায় সংস্কার ও চালু করার ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার মাথায় আছে এটি পরবর্তী একাডেমি মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।’

কলেজে অবশ্যই একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহীউদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে, পরবর্তী একাডেমি মিটিংয়ে এই বিষয়ে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব এটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করবো।’ 

এবিষয়ে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এ এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি একসময় ছিল, এখন নেই। তবে এটি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমি অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলবো যেন পরবর্তী একাডেমি মিটিংয়ে এটা নিয়ে আলোচনা করা হয়।’

ইত্তেফাক/মাহি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে- পাবিপ্রবি উপাচার্য

ওয়েবমেট্রিক্স র‍্যাংকিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দ্বিতীয় নোবিপ্রবি 

ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই জাবির উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন আজ

জাতীয় শোক দিবস পালনে সিকৃবি ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ববিতে 'আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত    

শেকৃবিসাসের সভাপতি জোবায়ের, সম্পাদক ওলী আহম্মেদ

হামলাকারীরা শনাক্ত না হওয়ায় কর্মবিরতিতে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ