শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চাকরিচ্যুত হওয়ার দুই বছরেও বাসা ছাড়েননি সাবেক ঢাবি অধ্যাপক

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১৮:৪৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে। বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ থাকলেও গত দুই বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা ছাড়েননি তিনি। 

এদিকে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের বাসা বিএনপির অঘোষিত কার্যালয় হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আগমণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রুহুল কবির রিজভীকে ক্লাবে আনার ক্ষেত্রেও মোর্শেদ হাসান খানের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর ফুলার রোডের ৩৭ নম্বর আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২৮০০ বর্গফুটের বাসায় থাকছেন মোর্শেদ হাসান খান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা ছিলো। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং তাকে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। পরে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াইয়ে গেলে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। তাই আমি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে পারব না। আদালত যা বলবে আমি তাই করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা বরাদ্দ কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর উনি বাসায় থাকতে পারবেন কি না, এই বিষয়ে কোনো কাগজপত্র এস্টেট অফিসে পাঠানো হয়নি। স্ব-উদ্যোগে তো এস্টেট অফিস কারও বাসা বরাদ্দ বাতিল করতে পারে না। উনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন, এ বিষয়ে অ্যাকাউন্টসে কাগজে এসেছে, যেহেতু উনি চাকরিচ্যুত উনার বেতন বন্ধ হয়েছে। উনার কাগজ গেছে বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অফিসে, বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে। উনি যে চাকরিচ্যুত হলেন ওই কাগজের একটা কপি এস্টেট অফিসে আসা উচিত ছিল। সেটা আসেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার কথা। এস্টেট অফিস নাকি পায়নি। এস্টেটকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত হয়ে বাসায় থাকতে পারেন কি না জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চাকরি না থাকলে বাসায় থাকবে কেন! নিয়ম অনুসরণ করে নোটিশ দিয়ে বাসা ক্যান্সেল করতে হয়। সেটা আরও আগেই নিশ্চিত করা উচিত ছিল। এস্টেট না জানার কারণে সেটি হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

২০১৮ সালের ২৬ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকের স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় তার লেখা ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে এক নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ আনে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় তাকে বরখাস্ত করার দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও ওই লেখার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের এক সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসককে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে মোকতাদির চৌধুরী ফের মনোনীত

ঢাবিতে অবহেলায় বাড়ছে সেশনজট

ঢাবি ‘চ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল জানা যাবে আজ

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ,  ৯১ শতাংশই ফেল 

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা : নম্বরের জটিল সমীকরণে আটকে যায় পরীক্ষার্থীরা

যেভাবে জানা যাবে ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের রেজাল্ট