গত এক সপ্তাহে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মুন্সীরহাট পয়েন্টে ক্রসবাঁধ ভেঙে যায়। উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বেড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, কুমারপাড়া, জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কাঠুর, থৈকরেরপাড়া, পূর্ব আমদিরপাড়া, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, খামার পবনতাইড়, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি, গোবিন্দী, বাঁশহাটা, দক্ষিণ সাথালিয়া, হাসিলকান্দি, ভরতখালী ইউনিয়নের বরমতাইড় ও ভাঙ্গামোড়সহ ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়।
হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের সব কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খাদ্য সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। নদীর তীরে বসবাস করা মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক রয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় এরই মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্দি, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি ও মুন্সির হাট এলাকা যমুনার প্রবল ভাঙনের মুখে পড়েছে এবার। অব্যাহত ভাঙনের কারণে এসব এলাকার দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ধান, পাট, মরিচ, কাউন, তিলসহ নানা ধরনের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দক্ষিণ দীঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই ও ঐ এলাকার শিক্ষক মণির উদ্দিন জানান, আমাদের বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়ায় তাড়াহুড়া করে সরিয়ে নিতে হয়েছে। সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, এবার বর্ষা শুরু থেকে যমুনা নদীর তীরবর্তী তার ইউনিয়নের হাটবাড়ি ও মুন্সীরহাট এলাকায় ভাঙনে এক মাসের ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে চলে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোহাম্মদ মোস্তফা শাহীন বলেন, যমুনার পানি বাড়ায় ভাঙন চলছে। ভাঙনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্ত ও ভাঙন এলাকায় ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ১০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে আবারও ১ হাজার পরিবারকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
