‘সাকিব কিছুই মনে ধরে রাখে না’

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ২১:০৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপের আগে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, এই টুর্নামেন্টের জন্য সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে যার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে ঈর্ষণীয় ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তিন নম্বরে নেমে শেষ চার ওয়ানডেতে পঞ্চাশর্ধ্বো ইনিংস খেলেছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেছেন। সাকিবের ১২১ রানের ইনিংসেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যা কিছুটা লড়েছিল বাংলাদেশ।

গত এপ্রিলে আইপিএল চলাকালীন হায়দরাবাদে ছেলেবেলার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছিলেন সাকিব। গতকাল ক্রিকবাজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে দুরন্ত ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান সাকিবকে নিয়ে কথা বলেছেন সালাউদ্দিন। প্রিয় শিষ্যর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, তিনে খেলা, নেতিবাচক আলোচনা নিয়েও মুখ খুলেছেন দেশের অন্যতম সফল এই কোচ।

বিশ্বকাপে সাকিবের কিছু প্রমাণ করার ছিল কি না জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমি তা মনে করি না। আপনি যদি দেখেন এখন পর্যন্ত সে যা অর্জন করেছে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে, কারো কাছে তার কিছু প্রমাণ করার নেই। বরং এটা বলা ভালো, সে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। এটা এমন যে আপনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা থেকে বের হয়ে আসছেন, যেখানে একজন ক্রিকেটার হিসেবে হয়তো আটকে আছেন। এখন যে অবস্থানে আছে সে জায়গা থেকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই তাকে মোটিভেট করছে।’

মূলত স্পিনারদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু শটস নিয়ে হায়দরাবাদের নেটে গুরু-শিষ্য কাজ করেছেন। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কিছু শটস খেলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। যখন সে ফ্রন্ট ফুটে খেলে, ফ্লিক বা গ্ল্যান্স যাই খেলুক বলটা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় যায়। আমরা চেষ্টা করে দেখেছি যে, সে তিনটা (স্কয়ার লেগ, ফাইন লেগ, মিড উইকেট) জায়গায় বল পাঠাতে পারে কি না। এই জায়গায় উন্নতির চেষ্টা করেছে সে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এটাও চেষ্টা করে দেখেছি, ব্যাক ফুটে এসে স্পিনারদের পুল করে ছক্কা মারতে পারে কি না। আপনি দেখবেন, ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো, অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্নার যখনই স্পিনারদের কাছ থেকে শর্ট বল পায়, তারা দ্রুত একটা পজিশনে চলে যায় এবং ছক্কা মারে। এছাড়া, স্পিনারদের বিরুদ্ধে সিঙ্গেল ও ডাবলস নিয়েও কাজ করেছে সে।’ অফ সাইডে শটস খেলার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে যেন বেশি সময় পান তা নিয়েও কাজ করেছেন সাকিব। যেখানে তার ব্যাটের গতি ও শটসের শক্তি বাড়াতে কাজ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে অফিসিয়াল জার্সির ফটোসেশনে উপস্থিত না থাকায় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন সাকিব। সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রশংসা-সমালোচনা কিছুই মনে ধরে রাখেন না এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘প্রথমত ওইটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। সে মেসেজটা পড়েনি। দ্বিতীয়ত, সে কোনো কিছুই মনে ধরে রাখে না। সেটা নেতিবাচক আলোচনা বা প্রশংসা হোক। সম্ভবত এটাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।’

ওয়ানডেতে তিন নম্বরে দারুণ সফল সাকিব। দুইশর বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন তিনি। সালাউদ্দিন বিশ্বাস করেন, টি-২০, ওয়ানডেতে তিনে ব্যাট করার সামর্থ্য রয়েছে সাকিবের। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি সবসময় বিশ্বাস করি শর্ট ফরম্যাটে তিন নম্বরে খেলার সামর্থ্য তার আছে। ওয়ানডে, টি-২০ এর চেয়ে টেস্টে তার বেশি বোলিং করতে হয়। টেকনিক্যালি বললে তার তিনে খেলার সামর্থ্য আছে। এই সেঞ্চুরি নিশ্চিতভাবেই তাকে সাহায্য করবে। এটা তাদের জন্য জবাবও হবে তার টেকনিক্যাল স্ট্রেন্থ ও টেম্পারমেন্ট নিয়ে যাদের সন্দেহ ছিল।’