সংঘবদ্ধ ধর্ষণে গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীসহ গ্রেফতার ৪

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ১৯:৫১

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে একজন গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় বুধবার (২৯ জুন) সকালে স্বামী লালচান মিয়া ও তার সহযোগী রমছু মিয়া, নাছির মিয়া ও শরিফ মিয়াকে নিকলী থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুন) রাত ৮টায় গৃহবধূ আশামনি (১৯) নানীর বাড়ি দক্ষিণ জাল্লাবাদ থেকে স্বামী লাল চান মিয়ার বাড়ি সাহাপুর যাওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে স্বামীসহ অন্য ৭-৮ জন মিলে আশামনিকে সাহাপুর রাস্তার মোড় থেকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে র্ধষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। সকালে এলাকাবাসী আশামনিকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। সেখানে মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাত ৩টায় তিনি মারা যান।  

আশামনির মামা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেশ কয়েক মাস আগে রসুলপুর গ্রামের মৃত সহর আলীর মেয়ে আমার ভাগনি আশামনির সঙ্গে সাহাপুর গ্রামের রাজু মিয়ার ছেলে লাল চানের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী লাল চান আমার ভাগনিকে পতিতাবৃত্তি ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত করতে চাপাচাপি সৃষ্টি করে। ঘটনার দিনও স্বামীসহ কয়েকজন আমার ভাগনিকে কু-প্রস্তাব দিলে আশামনি নানীর বাড়ি দক্ষিণ জাল্লাবাদ চলে যায়। সেখান থেকে রাতে স্বামীর বাড়ি আসার সময় স্বামীসহ ৭-৮ জন মিলে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। 

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আশামনির মামা মো. জাহাঙ্গীর আলম বুধবার দুপুরে নিকলী থানায় স্বামীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা কয়েজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।  পুলিশ একইদিন অভিযুক্ত স্বামীসহ এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আলী আরিফ বলেন, ‘গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুর ঘটনায় তার মামার করা মামলায় স্বামীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

ইত্তেফাক/মাহি