বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগসহ সাতটি দল ইভিএমের পক্ষে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০১:০০

আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সাতটি রাজনৈতিক দল পক্ষে জোর সমর্থন থাকলেও আপত্তি জানিয়েছে বেশির ভাগ দল। ইভিএম যাচাই-বাছাই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতবিনিময়ে দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। যদিও বিএনপিসহ ১১টি দল ইসির মতবিনিময়ে অংশগ্রহণ করেনি। তবে সিপিবি এবং বাসদ মতবিনিময়ে অংশ না নিলেও লিখিত বক্তব্যে তাদের ইভিএমে বিরোধিতার কথা জানিয়েছে। 

রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ে তিন ধাপে আয়োজিত মতবিনিময় শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ইভিএম নিয়ে বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা। সব আলোচনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে, তখন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইভিএমে ভোট সম্পূর্ণ নাকি অর্ধেক করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় দেড় লাখ ইভিএম প্রস্তুত রাখা আছে; যা দিয়ে ১২০টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সম্ভব। তবে নির্বাচন ইভিএমে নাকি ব্যালটে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি ইসি। ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বিভক্ত। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে যন্ত্রটি প্রদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি বিষয়ে প্রশ্নোত্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ‘ইভিএম প্রদর্শন’ বিষয়ক মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এর আগে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও ইভিএম নিয়ে মত বিনিময় করেছে কমিশন। এ ছাড়া অংশীজনের সঙ্গে ইসির চলমান সংলাপে ইভিএম নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মত এসেছে। গত ১৯ জুন থেকে তিন ধাপে গত ২৮ জুন পর্যন্ত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, আন্দারিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, এলডিপি, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এই ১১টি দল ইসির আমন্ত্রণে যায়নি। যে ১১টি দল ইসির মতবিনিময়ে অংশ নেয়নি তারা বরাবরই ইভিএম বিরোধী।

মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া ২৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সাতটি দল বিদ্যমান ইভিএমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কথা বলে। অন্য দলগুলো হলো—বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। গত মঙ্গলবার ইসির মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, দিস ইজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার- আমরা ইভিএম পদ্ধতির পক্ষে। ৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, গণফোরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট—এই ১০টি দল ইভিএমে ভোটগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছে। 

জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যেভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে, সেটার পক্ষেই তারা। ইভিএম ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেকমন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, আপাতত জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে ব্যবহারের পক্ষে নন তারা। তবে স্হানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আস্থা অর্জনের পর এটি পরবর্তীকালে বৃহত্ পরিসরে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে অহেতুক ইভিএম ইস্যুতে বিতর্কে না জড়াতে পরামর্শ দেন তিনি।

ইত্তেফাক/ইআ