চরভদ্রাসন পাইলট হাই স্কুল সরকারিকরণের রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে যথাযথ আদেশ জারি করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।
২০১৪ সালে প্রাথমিকভাবে স্কুলটি সরকারিকরণের জন্য নির্বাচন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আইন অনুযায়ী সরকারের বরাবর হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তি সহ প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলটি সরকারিকরণের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য ২০১৮ সালে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সরকারিকরণের বিষয়টি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালে একটি চিঠি দিয়ে আটকে দেয় সরকারিকরণ প্রক্রিয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টতই বলে দেয় যে, একই উপজেলায় একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকা অবস্থায় আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের সুযোগ নাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। এই রিট আবেদনের উপর জারিকৃত রুল চূড়ান্ত শেষে যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে চরভদ্রাসন পাইলট হাইস্কুল সরকারিকরণ করতে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যথাযথ আদেশ জারি করতে বলা গয়।
রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন ফকির ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব শুনানি করেন।
ব্যারিস্টার পল্লব ইত্তেফাককে বলেন, চরভদ্রাসন পাইলট হাইস্কুল ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার সবচেয়ে পুরনো এবং স্বনামধন্য স্কুল। ১৯৪৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হলেও অদ্যাবধি সরকারিকরণ করা সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টের রায় মেনে স্কুলটি সরকারিকরণ করা হলে এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভাবে উপকৃত হবে। অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা বিনা বেতনে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে।
