নবি-রসুলের জীবনী

হজরত হুদ (আ.)

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ০৮:৫৭

হজরত হুদ (আ.) একজন নবি। তার নামে পবিত্র কোরআনে একটি সুরা নাজিল হয়েছে। কোরআনের ১১তম সুরা হুদ নামে নাজিল হলেও সুরাটিতে তার সম্পর্কে সামান্য কিছু বর্ণনা রয়েছে। হজরত হুদ (আ.) ছিলেন হজরত নুহ (আ.)-এর বংশধর। তিনি আদ জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আদ সম্প্রদায়ের ১৩টি পরিবার বা গোত্র ছিল। আম্মান থেকে শুরু করে হাজারামাউত ও ইয়েমেন পর্যন্ত ছিল তাদের বসতি। (কুরতবি)

আদ ও ছামুদ জাতি ছিল নুহ (আ.)-এর পরবর্তী বংশধর এবং নুহের পঞ্চম অথবা অষ্টম অধস্তন পুরুষ। ইরামপুত্র ‘আদ (আ.)-এর বংশধরগণ ‘আদ উলা’ বা প্রথম ‘আদ এবং অপর পুত্রের সন্তান ছামুদ (আ.)-এর বংশধরগণ ‘আদ ছানি’ বা ‘দ্বিতীয় আদ’ বলে খ্যাত। (ইবনে কাসির)

আদ জাতি খুবই শক্তিশালী ও উন্নত ছিল। তারা শক্তি দিয়ে সুবিশাল পাহাড় কেটে সুন্দর কারুকাজ করে বড় অট্টালিকা তৈরি করত। তাদের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা রহমতের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আল্লাহকে ভুলে যায়। যখন তাদের মধ্যে অপকর্মের মাত্রা বেড়ে যায়, তখনই মহান আল্লাহ তাদের সৎপথে আহ্বানের জন্য একজন নবি পাঠান। সেই নবি হচ্ছেন হজরত হুদ (আ.)। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আদ সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছি তাদের ভাই হুদকে।’ (সুরা আ’রাফ :৬৫)

হজরত হুদ (আ.) তাদের অপকর্ম থেকে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন। কিন্তু হজরত হুদ (আ.)-এর সত্যের আহ্বান অল্পসংখ্যক লোক মান্য করল। বাকিরা হজরত হুদ (আ.)কে অপমান করল। আল্লাহর বাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করল। উলটো ইসলাম ও হজরত হুদ (আ.)কে নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করতে লাগল। এই পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর প্রাথমিক শাস্তি অর্পণ করেন। তাদের ওপর আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে জমিন চৌচির হয়ে গেলে হজরত হুদ (আ.) তাদের শাস্তির কথা বলেন। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করল না।

বছর তিন সময় দেওয়ার পরেও যখন তারা পরিবর্তন হলো না, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ঝড় দিলেন। ভয়ানক ঝড়ে আদ জাতি ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহ তার ক্ষমতা দিয়ে হজরত হুদ (আ.) ও তার অনুসারীদের রক্ষা করলেন। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আদ জাতি, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করেছে এবং বলেছে, আমাদের চেয়ে শক্তিধর কে আছে? তারা কি লক্ষ করেনি যে আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর? বস্তুত তারা আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকার করেছে (সুরা হামিম সিজদা-১৫)।

লেখক: ধর্মীয় গবেষক

ইত্তেফাক/এমআর