আপনার মৌলিক দায়িত্ব

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ২১:৫৩

প্রতিটি ব্যক্তির প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বটি হলো আনন্দে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা। কারণ- ব্যবসা, অর্থ, পরিবার বা আধ্যাত্মিকতা, জীবনে আপনি যে পথই অনুসরণ করুন না কেন, এটা শুধুই খুশি হওয়ার একটি প্রয়াস। খুশি হওয়ার অর্থ বলতে সব সময় আপনি যা বুঝেছেন তা হলো, বহির্জগতে যা করতে বা অর্জন করতে চান, সেটি করতে সক্ষম হওয়া। খুশি এবং শান্তিপূর্ণ হওয়াকেই একটি সফল জীবনের চূড়ান্ত মাত্রা বলে ধরা হয়, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এটি জীবনের সবচেয়ে বুনিয়াদি দিক। ভালো থাকার অর্থ হলো শান্তিতে এবং খুশিতে থাকা। ব্যক্তি মানুষের ভিন্নতা ভেদে খুশির স্তর, শান্তির স্তরে তফাত্ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু সব মানুষেরই অভীষ্ট হলো খুশি অনুভব করা। কিছু মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন, কেউ কেউ সচেতন নন, কিন্তু ব্যক্তি মানুষের প্রত্যেকটি কাজের মৌলিক লক্ষ্য হলো জীবনের আঙিনায় ভালো থাকা, খুশিতে থাকা।

অগণিত উপায়ে মানুষের খুশি বাহ্যিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। বাইরের পরিস্থিতির উপর যদি নির্ভর করে থাকেন, জীবনে কখনোই প্রকৃত আনন্দকে জানতে পারবেন না, কারণ বাইরের জগতের উপর কোনোদিনই আপনার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। যদি আপনার কাজের মাধ্যমে খুশির সন্ধানে যান, সর্বদাই বহির্জগতের দাসত্বের শিকলে বাঁধা পড়বেন। দাসত্বে শৃঙ্খলিত হয়ে থাকলে, কষ্ট ভোগের কিছু অনুভূতি সর্বদাই থেকে যাবে। একজন ব্যক্তি মানুষের কী আছে না আছে, তা কোনো অর্থ রাখে না, সব সময় তিনি আরও কিছু পেতে চান। যতক্ষণ না একজন মানুষ সুখানুভূতির অন্তর্জগতের ভিত্তিটি খুঁজে পান, সর্বক্ষণ তিনি ভিখারির মতো হয়ে বেঁচে থাকবেন।   

জীবনের খুশি, ভালোবাসা বা শান্তি বলে যা বোঝেন বা অনুভব করেন তার একটি অন্তর্জগতের ভিত্তি আছে। আজ যদি আপনি মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলেন, ডাক্তার আপনাকে একটি ওষুধ দেবে। ক্ষণিকের জন্য হলেও, এই রাসায়নিক পদার্থগুলো শরীরে প্রবেশ করার পর আপনাকে শান্তিপূর্ণ করে তুলবে। অথবা অন্য কথায়, যাকে আপনি শান্তি বলেন, আসলে তা আপনার ভিতরে থাকা এক ধরনের কেমিস্ট্রি। একইভাবে, আনন্দ, ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট বা ভয় বলে যা জানেন, এই প্রত্যেকটি মানবিক অনুভূতির একটি রাসায়নিক ভিত্তি রয়েছে আপনার ভিতর। যোগের সামগ্রিক পদ্ধতির লক্ষ্যই হলো, আপনার ভিতরের জগিটকে সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে এনে দেওয়া। এটি হলো বাইরের জগতের দাসত্বের অবস্থা থেকে ভিতরের জগতের পরিপূর্ণতার অনুভবের দিকে যাওয়ার এক সম্ভাবনা, আর এটাই হলো সেই অন্তহীন অবস্থা। আপনার ভিতরের প্রকৃতি যদি বাধাবন্ধনহীন হয়, আপনার জীবনও হবে সীমাহীন। আপনি চোখ বুজে বসে থাকতে পারেন বা বিভিন্ন কাজ করে যেতে পারেন দুভাবেই আপনার জীবন পরিপূর্ণ হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের ভিতরে এই অবস্থায় পৌঁছান, যেখানে তার কাজকর্মগুলো শুধুমাত্র জীবনের বাহ্যিক পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা পর্যন্তই সীমায়িত, সেক্ষেত্রে তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ। বাহ্যিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে, নিজের ভিতরে আপনার অন্তঃপ্রকৃতি যদি পরিপূর্ণতায় উত্তীর্ণ হয়, আমরা বলতে পারি যে, আপনি অসীম হয়ে উঠেছেন। এটিই প্রকৃত সুখের অবস্থা।

প্রথমে এটা জানা প্রয়োজন যে, আমাদের দুর্দশার ভিত্তি হলো, আমরা নিজেদের অসত্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছি। যা আমরা নই, সেগুলো দিয়েই গভীরভাবে নিজেদের শনাক্ত করেছি। জীবনের যাত্রাপথের কোথাও একটা নিজেদের চারপাশের জিনিস দিয়েই আমরা পরিচিত হয়ে আছি। আমাদের শরীর এবং মনের সঙ্গে আমরা একাত্ম হয়ে আছি। ওটাই হলো দুঃখ ভোগের উত্স। সহজ কথায়, আধ্যাত্মিকতা হলো, যা আমরা নই, সেই পরিচিতিকে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া, বাঁধাগতের খোলসকে পরিত্যাগ করে যাতে জানতে পারি যে, কী আমরা নই। সেটি যখন সম্পূর্ণ হয়, আমরা এমন কিছুতে পৌঁছাই, যাকে অবহেলা করা যায় না। এই আবিষ্কারই হবে দেবত্বের স্বীকৃতি এবং তখনই আমরা দেখব যে, দুঃখের কোনো কারণ নেই এই পৃথিবীতে।

n সৌজন্যে : ঈশা ফাউন্ডেশন