সিকদার মোহাম্মদ জাকারিয়া
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মাছই সাদা। কিছু কালো ও অন্যান্য রঙের হয়ে থাকে। আমরা জানি যে, হ্রদের পানি অনেক স্বচ্ছ হয়ে থাকে। সেখানে হরেক রঙের মাছ পাওয়া যায়। যা হ্রদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সেই সকল দেশি-বিদেশি বাহারি রঙের মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামে বা চৌবাচ্চায় রাখলে তা ঘরের শোভা বর্ধন করে।
আমাদের দেশে অ্যাকুয়ারিয়ামে রঙিন মাছ চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। শৌখিন মানুষেরা বাসাবাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অ্যাকুয়ারিয়াম রাখছে। শুধু বাসাবাড়িই নয় এখন বিভিন্ন শপিং মল, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন দোকান এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অ্যাকুয়ারিয়ামের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। কিছুদিন পূর্বেও অ্যাকুয়ারিয়াম শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের বাড়িতেই দেখা যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন মধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্নবিত্ত পরিবারে অ্যাকুয়ারিয়াম রাখতে দেখা যায়। যতদিন যাচ্ছে এর ব্যবহারও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে রাজধানীতে মাত্র ৩৪টি দোকান ছিল। কিন্তু এখন দোকানের সংখ্যা শতাধিক। তাছাড়াও বিভিন্ন ফার্নিচারের দোকানেও বিভিন্ন ধরনের অ্যাকুয়ারিয়াম তৈরি করা হচ্ছে।
আমরা সাধারণত গোল্ড ফিশ, ব্ল্যাক-গোল্ড ফিশ, মলি, প্লাটি, টাইগার বার্ব, অ্যাঞ্জেল ফিশ, রোজীবার্ব, ক্যাট ফিশ, উইডো টেট্রা, শার্পে টেট্রা, সোর্ডটেল, পার্ল গোরামী, কিসিং গোরামী, ডোয়ার্ফ গোরামী, ব্লু চিকলিড, ছোট্রেল ফিশ, জেব্রা চিকলিড, টেট্রা, টাইগার, কমেড কার্প, কই কার্প, ম্যানিলা কার্প ইত্যাদি মাছ চাষ করে থাকি। এই মাছগুলোর জন্যে খুব বেশি খাবারের প্রয়োজন হয় না। এরা সাধারণত ইনফুসুরিয়ান্স, ব্রাইন শ্রিম্প, ওয়াটার ফ্লি, ব্লাড ওয়ার্ম, স্লাডজ ওয়ার্মস ইত্যাদি খাবার খেয়ে থাকে। সময়মতো ও পরিমাণমতো মাছকে খাবার দিলে ও একটু সচেতন থাকলে এই মাছ চাষ করা যায়। রঙিন মাছগুলো বিদেশি হওয়ায় তা আমদানি করতে হয়। ফলে এই খাতে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু তরুণ উদ্যোক্তা দেশেই রঙিন মাছ ব্রিড করছে।
রংপুর, সাতক্ষীরা, ফেনী, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন মাছের চাষ হচ্ছে। তাছাড়া অনেকে আবার বাসার ছাদে এ মাছের চাষ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করছে। ফলে একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমছে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়ে বেকার সমস্যা দূর করে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধি করছে।
বাণিজ্যিকভাবে এই মাছ চাষ করা অনেক সহজ। অনেক অল্প জায়গায় এই মাছ চাষ করা যায়। চৌবাচ্চা বা পানি ধরে রাখা যায় এমন জায়গায় আমরা এই মাছ চাষ করতে পারি। সাধারণ মাছ চাষের চেয়ে রঙিন মাছ চাষ করা সহজ। সবচেয়ে জরুরি বিষয় পানি পরিষ্কার রাখা। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিক রাখা। আর খাবার সঠিক সময়ে ও পরিমাণমতো দেওয়া। তাহলেই আমরা এর ভালো চাষ করতে পারবো।
এই উদ্যোগের জন্যে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। মাত্র পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। মাছগুলো দুইভাবে ব্রিড করে।...
এই বিষয়ে আরো অধিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে আরো নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
সরকারি ও বেসরকারি পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পেলে রঙিন মাছের চাষ ব্যাপকভাবে সফলতা পাবে। যা দেশের বেকার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতিকেও প্রসারিত করবে। এই মাছগুলোর বিদেশে অনেক চাহিদা থাকায় রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সাহায্য করবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
