সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘ইভ্যালির কাছে ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে’

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ২১:০৭

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কাছে ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে  এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ। ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলের কাছে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেও পাসওয়ার্ড উদ্ধার করতে পারেনি পরিচালনা পর্ষদ। মূল সার্ভার সচল না হওয়া পর্যন্ত গেটওয়েতে থাকা প্রায় ২৫ কোটি টাকা ছাড় করবে না ব্যাংকগুলো। পাওনাদারদের সঠিক তথ্য না পাওয়ায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ মূল্যের পণ্য থাকলেও তা দেওয়া যাচ্ছে না।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি

এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ইভ্যালির শেয়ার হস্তান্তর করতে হলে পরিচালনা বোর্ডের কাছে আসল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। হাইকোটের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, হাইকোর্ট আমাদের অডিট শেষ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা হুদা-ভাসি নামক প্রখ্যাত একটি অডিট ফার্মকে অডিটের দায়িত্ব দিয়েছি। ২৭ লাখ টাকায় তারা অডিট করছে। জুলাই মাসের শেষ নাগাদ তাদের অডিট কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর আমরা ইভ্যালির সম্পদের বিস্তারিত অবস্থা জানতে পারব।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আরও  বলেন, ইভ্যালির কাছে দুই ধরনের পাওনাদার রয়েছে। একদল সাপ্লাইয়ার বা মার্চেন্ট আর অন্যরা ক্লায়েন্ট। ঢাকার সাভারে ইভ্যালির দুটি ওয়্যার হাউজে সর্বসাকুল্যে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। এছাড়া কয়েকটা ছোট পুরাতন কাভার্ডভ্যান ও গাড়ি পেয়েছি। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এসব সম্পদ পাওনাদারদের অর্থের তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসে ইভ্যালির সার্ভারে প্রবেশ করা না গেলে কোনো তথ্যই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

'এদিকে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন বিনিয়োগকারী আনতে পারবেন বলে উচ্চ আদালতে একটি আর্জি দিয়েছেন। তারা যদি বিনিয়োগকারী আনতে পারে তবেই কোম্পানি চলবে, পাওনাদাররাও টাকা পাবে। এটা নির্ভর করছে তারা বিনিয়োগকারী আনতে পারবেন কি-না।'—এমনটা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সরকারের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুব কবীর মিলন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

ইভ্যালি কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ। ছবি: ইত্তেফাক

ইভ্যালির এমডির দায়িত্বে থাকা মাহবুব কবীর মিলন জানান, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে থাকা ইভ্যালির সার্ভারের পাসওয়ার্ড জানতে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলে গিয়ে রাসেলের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। রাসেল জানিয়েছেন, পাসওয়ার্ডটি তার মনে নেই। এটি একটা জটিল পাসওয়ার্ড, যা তার ডেস্কের ড্রয়ারে একটি কালো ডায়েরিতে লিখে রাখা ছিল। কিন্তু আমরা যখন এই অফিসে বোর্ড গঠন করেছি তখন কোনো কাগজপত্রই পাইনি।

মিলন জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এটুআই, সিআইডিসহ একাধিক আইটি এক্সপার্টদের সঙ্গে বসে অ্যামাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ডটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সম্ভব হয়নি। অ্যামাজন বলেছে, ‘পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। যে অ্যাকাউন্টটি তৈরি করেছে, সে ছাড়া অন্যকারোর চেষ্টায় কাজ হবে না।’ এমনকি অ্যামাজন ইভ্যালির কাছে কত টাকা পায়, সেটিও আমরা জানি না।

মাহবুব কবীর মিলন আরও বলেন, আমরা ইভ্যালির সাবেক আইটি প্রধান তানভিরের সঙ্গে কথা বলেছি। তানভীরের দাবি তিনি রাসেল গ্রেফতারের আরও দু'মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তখন আইডি পাসওয়ার্ড সহ সব তথ্য রাসেলকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আগের পাসওয়ার্ড এখন কাজ করছে না, অর্থাৎ রাসেল তা পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু সেটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সার্ভারে প্রবেশ করা না গেলে গ্রাহকদের লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যাবে না। গেটওয়েতে আটকে থাকা পণ্য বা টাকাও ছাড় পাবে না।

এদিকে ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলের মুক্তির দাবিতে ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। ইভ্যালির বর্তমান বোর্ডের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলনের খবরে জড়ো হন গ্রাহকরা।

সংবাদ সম্মেলনের পর বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন বাইরে উপস্থিত শতাধিক গ্রাহক। তাদের দাবি, মো. রাসেলকে মুক্তি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিলে ইভ্যালি ঘুরে দাঁড়াবে। গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন, মার্চেন্টরাও পাবেন, মিলবে বিনিয়োগকারীও। এসময় মাহবুব কবীর মিলন বলেন, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা কোম্পানি বাঁচানোর চেষ্টা করছি। আপনারা যেন পণ্য অথবা টাকা ফেরত পান সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আস্থা রাখুন, ধৈর্য ধরুন।

প্রসঙ্গত, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গেল বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গত ২১ এপ্রিল চেক প্রতারণার ৯ মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে জামিন দেন আদালত। ওই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় কারামুক্ত হতে পারেননি রাসেল। শামীমা নাসরিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর ইভ্যালি পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বোর্ড গঠন করেন।

ইত্তেফাক/এএএম/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শোক দিবসে উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্জ্বলন

বউভাত শেষে বাড়ি ফেরা হলো না তাদের

পাসপোর্ট অধিদফতরে জাতীয় শোক দিবস পালন

ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে নিহত ৪

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চকবাজারে কারখানায় আগুন: ৬ জনের লাশ উদ্ধার

আইইবিতে জাতীয় শোক দিবস পালন 

চকবাজার পলিথিন কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা