বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় অর্ধলক্ষ মানুষ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ০৪:৪০

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি গ্রামের আশুতোষ বিশ্বাস (৪০) বলেন, ‘বর্ষাকাল এসে গেছে। জোয়ারের পানির চাপে যে কোনো সময় কপোতাক্ষ নদের পাড় ভেঙে যেতে পারে। মাঝে মাঝে চেয়ারম্যান, মেম্বর ও পাউবো থেকে লোক এসে দেখে যান, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। পাড় ভেঙে গেলে আমাদের জেলে পাড়ার প্রায় ৬০০ ঘরের মানুষ পানিতে তলিয়ে যাবে। ঘরের মধ্যে জল ঢুকে গেলে আর বসবাস করা সম্ভব হবে না। তখন না খেয়ে মরতে হবে।’ সম্প্রতি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় এভাবেই কপোতাক্ষ নদের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্ট ভাঙনের চিত্র তুলে ধরেন আশুতোষ বিশ্বাস।

এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদে চলে গেছে। কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে সরু হয়ে গেছে। অনেক স্হানে বাঁধের অস্তিত্ব নেই। আবার অনেক স্থানে বাঁধ ওপরের স্থান ভেঙে প্রায় সমান হয়ে গেছে। সেখান থেকে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় পানির চাপে যে কোনো সময় কপোতাক্ষ নদের পাড় ভেঙে হরিঢালী ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি গ্রামের খেয়াঘাট এলাকার শ্মশান ঘাট থেকে খাস খাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় চার বছর ধরে কপোতাক্ষ নদে ভাঙন চলছে। তার মধ্যে গত দুই বছর এই ভাঙন আরো তীব্র হয়েছে। গত বছর পাউবো কিছু কাজ করলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

মাহমুদকাঠি গ্রামের সন্েতাষ বিশ্বাস (৭২) বলেন, তিন-চার বছর ধরে এখানে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাতের মত নদ ভেঙে এগিয়ে এসেছে। তিন-চার বছর আগেও কপোতাক্ষ নদ প্রায় ২৫ হাতের মতো দূরে ছিল। এখান থেকে ভেঙে গেলে ইউনিয়ন জুড়ে পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।

হরিঢালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বর) শংকর বিশ্বাস বলেন, ইতিমধ্যে এই এলাকায় ভাঙনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি কপোতাক্ষ নদে চলে গেছে। পাউবো এখনো ব্যবস্হা নেয়নি। বাঁধ ভেঙে গেলে ইউনিয়ানের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। মানুষ গৃহপালিত জীবজন্তু নিয়ে কোথায় যাবে? তবে সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে মালোরা (জেলে)। কারণ অধিকাংশ মালো পরিবার চার-পাঁচ শতক খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করছে। ঐ স্হান ভেঙে গেলে তাদের বসবাসের আর কেনো জায়গা থাকবে না। সে কারণে দ্রুত ব্যবস্হা নেওয়া প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)— খুলনা-১ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘ঐ এলাকা আমরা দেখে এসেছি। ঐ এলাকা খুবই ঝঁুকিপূর্ণ। ঐখানের বাঁধও ভেঙে নদে চলে গেছে। এখন নদের পাড়ে জায়গাও নেই। ফলে ঐ জায়গা দিয়ে আর বাঁধ করতে পারব না। এখন নতুন করে গ্রামের মধ্য দিয়ে বাঁধ দিতে হবে। তার জন্য একটি নকশা ও অর্থ লাগবে। সে ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠিয়েছি। ওটা অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি