জনবলসহ নানা সংকটে ফেনী ফায়ার স্টেশন!

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ২১:৫৮

নানা সমস্যায় জর্জরিত

হাবিবুর রহমান খান, ফেনী প্রতিনিধি

ফায়ারম্যানদের পুরাতন জরাজীর্ণ ব্যারাক, ফায়ারম্যানের স্বল্পতা ও ৪০ বছরের পুরাতন দুটি গাড়িসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূঁঞা ইত্তেফাককে জানান, ফেনী জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবনটি ১৯৬৫ সালে এক একর জায়গার উপর নির্মিত হয়। বর্তমানে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবন, গ্যারেজ ও গাড়ি সংকট রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অগ্নিনির্বাপণের জন্য এখানে যে দুইটি গাড়ি রয়েছে সেগুলোর বয়স ৩৫-৪০ বত্সর। পুরাতন গাড়ি হওয়ায় জেলার কোথাও আগুন লাগলে দ্রুততম সময় পৌঁছাতে পারে না। জেলার ছয়টি উপজেলার শহরে ও গ্রামে বর্তমানে অনেক ছয় থেকে ১৮তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন ও মার্কেট নির্মিত হয়েছে। এসব বহুতল ভবনে আগুন লাগলে আগুন নেভানোর মতো অত্যাধুনিক কোনো গাড়ি বা সরঞ্জাম নেই এই স্টেশনটির। 

উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূঁঞা জানান, বর্তমানে তাদের যে ফায়ার লেডার গাড়ি রয়েছে, এটি সর্বোচ্চ তিন থেকে চারতলা ভবনের আগুন নেভানোর ক্ষমতা রাখে। যার কারণে জেলার শহর ও শহরতলীর বহুতল ভবন ও মার্কেটগুলো প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন থেকে ফায়ার স্টেশন অফিসারের একটি পদ খালি রয়েছে এবং ফায়ার ফোর্সম্যান ২২ জনের মধ্যে চারজনের পদ খালি, বাকি ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনকেই বিভিন্ন কাজে ফেনীর বাইরে ডেপুটেশনে থাকতে হয়। ফলে স্বল্প ফায়ারম্যান এবং পুরাতন গাড়ি নিয়েই বর্তমান সময়ের অগ্নিকাণ্ডগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একজন স্টেশান অফিসার, চারজন ফায়ারম্যানের শূন্য পদ পূরণ অত্যন্ত জরুরি এবং জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি ভেঙে আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদিসহ অগ্নিনির্বাপণের আধুনিক গাড়ি বরাদ্দের মাধ্যমে স্টেশনকে মডেল স্টেশনে রূপান্তর করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

ফেনী পৌর প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গীটার বলেন, ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি ফেনী মহকুমা থাকাকালে যেভাবে নির্মিত হয়েছিল, তার কোনো উন্নতি হয়নি। পুরাতন গাড়িগুলোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন এবং ফায়ারম্যানদের জরাজীর্ণ ব্যারাকটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা দরকার। ফায়ার সার্ভিসের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি। কারণ, বর্তমানে পৌরসভা এলাকায় সাত থেকে ১৮তলা পর্যন্ত শপিংমল ও বাসভবন নির্মিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটিকে মডেল স্টেশনে রূপান্তর করা অত্যাবশ্যক। উন্নতমানের কোনো যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে ফেনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবনে আগুন লাগলে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অপরদিকে ভবনের মালিকরা সবসময় আগুন আতঙ্কে রয়েছে।

ফেনী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আইনুল কবির শামীম জানান, ফেনী শহর সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে ফেনী ফায়ার সার্ভিসকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেশনে রুপান্তর করা প্রয়োজন এবং এখানে বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার লেডার সংযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। 

স্থানীয় সমাজকর্মী শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফেনী ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো পুরনো হওয়ায় কোথাও আগুন লাগলে গাড়িগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পারে না। বর্তমানে ফেনী ফায়ার সার্ভিসটিকে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশনে রূপ দিয়ে অত্যাধুনিক গাড়ি বহরসহ এবং যন্ত্রপাতি সংযোজন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, ফেনীর পার্শ্বেই কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালী-মাইজদী, চট্টগ্রামের বারইয়ার হাট, করেরহাট, রামগড়সহ জেলার ছয়টি উপজেলা অবস্থান করছে। যদি অত্যাধুনিক গাড়ি বহর এই স্টেশনে সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এই সকল এলাকায় কোথাও আগুন লাগলে ফেনী থেকে গিয়ে দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হবে।