লঞ্চ পারাপারে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ

গৌরীপুরে ফিরতি পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ২১:৫৮

কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদ্যাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাস ও ট্রেনযোগে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। যাত্রীর তুলনায় বাস, ট্রেন সংকট ও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে কর্মস্থল ফেরত যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফিরতি পথে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া ও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ যাত্রীদের।

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভই করেননি।

শনিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের ভাড়া ২৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা ও গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৪০ টাকার ভাড়া ১শ টাকা করে রাখা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

অপরদিকে পৌর শহরের হারুন পার্ক এলাকায় ঢাকাগামী ধূমকেতু বাসের ২২০ টাকার টিকিট ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এছাড়া গৌরীপুর থেকে শাহগঞ্জ, ভুটিয়ারকোনা, বেখৈরহাটি, রামগোপালপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, গোবিন্দপুর, শ্যামগঞ্জ, কলতাপাড়া, ডৌহাখলাসহ সকল সড়ক পথেই সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়াও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। 

বাসযাত্রী আব্দুর রাকিব বলেন, ঈদ ও অন্যান্য উত্সব উপলক্ষে অন্যান্য দেশে যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ভাড়া কমিয়ে দেয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ। অথচ আমাদের দেশের চিত্র ভিন্ন। আজ গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের ২৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টা আমি জেনেছি। এ বিষয়ে আমি এসিল্যান্ডকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, শিবচরে ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ গত শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রবিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই নৌযানে উঠতে যাত্রীদের প্রতিযোগিতা চলছে। কোনোমতে নিজের জায়গা দখল করে নিতে ব্যস্ত সকলে। এদিকে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, র্যাব, আনসার, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন করতে সকাল থেকে শিবচর উপজেলার সত্ ও দক্ষ নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) আল নোমানসহ একাধিক টিমও কাজ করছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ঘাটে পর্যাপ্ত ফেরি রয়েছে। পরিবহনের চাপ বেশি রয়েছে তারপরও ঘাট এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই গাড়ি ফেরিতে উঠছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাঁঠালবাড়ি লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, সকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। তবে লঞ্চে শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।