শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এবার লুহানস্ক দখলের দাবি রাশিয়ার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯:৫২

ইউক্রেনের পুর্বাঞ্চলের লুহানস্ক অঞ্চল দখলে নিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে লুহানস্ক দখলের খবর জানিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্স থেকে এ খবর জানানো হয়।     

প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য লুহানস্ক দখলকে বর্নণা করেছেন এইভাবে যে, ‘‘এ অঞ্চলটিকে কিয়েভের অর্থাৎ ইউক্রেনের শাসন থেকে মুক্ত করা হয়েছে।'' লুহানস্কের লিসিচানস্ক শহরের দখলের পর এমন ঘোষণা দেয় রাশিয়া।    

তবে ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার এ দাবির সতত্যা নিশ্চিত করেনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লিসিচানস্কে নিজেদের অবস্থার ধরে রাখার জোরালো চেষ্টা করে যাচ্ছিল ইউক্রেনীয় সেনারা। 

ইউক্রেনের পুর্বাঞ্চলে রাশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লুহানস্ক। ইউক্রেনে হামলা চালানোর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটির রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হলে লুহানস্ক ও দনেৎস্ক দখলের চেষ্টা চালায় রাশিয়ার সেনারা। 

রাশিয়ান সেনাদের সঙ্গে মিলে এ অঞ্চলের বিদ্রোহীরাও ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্রোহীরা অবশ্য ২০১৪ সালে রাশিয়ার হামলার পর থেকেই এ অঞ্চলে সরব ছিল।

রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, রাশিয়ার সেনা ও তাদের মিত্ররা ইসিচানস্ক শহরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর বিশ্লেষকরা এক বিবৃতিতে জানায়, সম্ভবত ইসিচানস্ক শহর থেকে ইউক্রেনের সেনাদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর পরে রাশিয়ান সেনারা শহরটির দখল নেয়।  

রাশিয়ান সেনারা যে লুহানস্ককে ঘিরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে সে বিষয়টি আগেই টের পাওয়া গিয়েছিল।

অঞ্চলটি পুরোপুরি দখলের বিষয়ে রাশিয়ার ঘোষণা আসার আগেই, লোহানস্কের গভর্নর সেরহি গিদাই টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ‘‘লুহানস্ককে ঘিরে রাশিয়ান সেনারা তাদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। তারা নিষ্ঠুরভাবে শহরটিতে আক্রমণ করছে।’’

আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জেলেনস্কির

এদিকে যুদ্ধে আক্রান্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি।

রবিবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, দখলদাররা যা ধ্বংস করেছে তা পুনর্গঠনই নয়, ইউক্রেনের মানুষের জন্য নতুন করে সবকিছু করতে হবে। আর এর মানে হলো এই মুহূর্তে ইউক্রেনে মোটা অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার  সুইজারল্যান্ডে দুইদিনের এক আলোচনায় বসছেন পশ্চিমাদেশগুলোসহ বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের নেতারা। 

ইত্তেফাক/এসআর