গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করেছে চালক। নিহত ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন (৪৭)। রবিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আলম-এশিয়া পরিবহনের বাসটিকে ধাওয়া করলে রাস্তার পাশে বাস রেখে পালিয়ে যায় বাসচালক, হেলপার ও কন্ডাকটর। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় বাসচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছোটভাই জালাল মিয়া।
জালাল মিয়া বলেন, বাসটি বাঘেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে আসার পর আমার অসুস্থ ভাইকে বাস থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ভাবিকে না নামিয়ে বাসটি সামনে এগোতে থাকলে আমি ও আমার ভাই বাসের সামনে গিয়ে চালককে বাস থামাতে বলি। চালক আমাদের কথা না শুনে দ্রুত গতিতে বাসটি সামনে আগাতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি সরে আসতে পারলেও ভাই সালাউদ্দিন নিচে পড়ে যান। চালক আমার কথায় কর্ণপাত না করে ভাইকে পিষ্ট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। একজন প্রাইভেটকার চালক ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাসটিকে ধাওয়া করে। ৫ কিলোমিটার দূরে আমতলী নামক স্থানে ভাবিকে ফেলে রেখে আরো কিছুদূর গিয়ে হোপাতাড়া এলাকায় ফু-ওয়াং ফুড কারখানার সামনে বাস ফেলে চালক, হেলপার ও কন্ডাক্টর পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্বজনরা ভাবিকে উদ্ধার করেন।
সালাউদ্দিন ঢাকার আলু বাজারের মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকার আতা মেম্বারের বাড়িতে স্ত্রী পারুল আক্তারকে (৩৮) নিয়ে ভাড়া থাকতেন। সালাউদ্দিন স্থানীয় পলমল গ্রুপের স্কটেক্স এ্যাপারেল কারখানার বাসচালক এবং স্ত্রী কারখানার অপারেটর ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারুল আক্তার জানান, ১৮ বছরেরে দাম্পত্য জীবনে তারা নিঃসন্তান ছিলেন। ৪ মাস আগে স্ট্রোকে স্বামীর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঈদ করতে তিনি বাপের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার শীলপুর গ্রামে গিয়েছিলেন। রবিবার সকালে তারা আলম-এশিয়া পরিবহনের বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৩৬৬) ফুলপুর থেকে গাজীপুরের বাঘেরবাজারে ফিরছিলেন। বাসটি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের নিকট পৌঁছালে ভাড়া দাবি করে। সালাউদ্দিন দুই জনের ভাড়া ৬০০ টাকা দিয়ে সম্মানস্বরূপ কিছু ভাড়া কম নিতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বাধে। ঝামেলা হতে পারে আন্দাজ করে সালাউদ্দিন মোবাইল ফোনে ঘটনাটি তার ছোটভাই জালাল মিয়াকে জানিয়ে বাসস্ট্যান্ডে থাকতে বলেন।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক, হেলপারও কন্ডাকটর পালিয়ে গেছে। সালাউদ্দিনকে বাসের চাকায় পিষ্ট করে হত্যার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জয়দেবপুর থানা ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাসের চালক, হেলপার, সুপারভাইজার, ও কন্ডাক্টরের পরিচয় উদঘাটন এবং গ্রেফতারের অভিযান শুরু হয়েছে। চালকের লাইসেন্স এবং বাসটিরও ফিটনেস ছিল কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
