যমুনার চরাঞ্চল কাজলা ইউনিয়নের কটাপুর বাজার থেকে পাকেরদহগামী সড়কে রাজুর বাড়ির নিকট খালের উপর নির্মিত সেতুটি বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ায় চরের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালর্ভাট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ফুট দৈর্ঘ্যরে সংযুক্ত সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক মাস পরেই সেতুটি বন্যায় বিধ্বস্ত হয়। ঐ সেতু সংযোগ সড়কে শাহজালাল বাজার, আনন্দ বাজার, কটাপুর বাজার, মানিকদাইর ও জামথল বাজার অবস্থিত। চরের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যানবাহনে সড়কপথে বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে বিক্রি করে থাকে। তাছাড়া জামালপুরের মাদারগঞ্জ,ইসলামপুর উপজেলার লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এ পথে বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করে থাকে। কিন্তু সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে চরবাসী যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
কাজলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার বলেন, খালের উপর নির্মিত সংযুক্ত দুটি সেতু কাজলা ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের ২৫টি চরগ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু বন্যার সময় ধসে যাওয়ায় যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চরের লোকজন জানান, যে গভীরতায় সেতুর ভিত্তি দেওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে বন্যার স্রোতে সেতু ধসে গেছে।
প্রকৌশলীরা জানান, চরের মাটি পরীক্ষা করে বিশেষ ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে সাধারণ ডিজাইনে নির্মাণ কাজ করাতেই সেতু বিধ্বস্ত হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমি সারিয়াকান্দিতে যোগদানের পূর্বে ঐ সেতু নির্মিত হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু বলতে চাই না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, ঐ এলাকায় মুজিব বর্ষের ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় মালামাল পরিবহনে আমরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। তবে প্রকল্প অফিসের মাধ্যমে শিগগিরই প্রাক্কলন তৈরি ও সেতু মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক(অতিরিক্ত-সচিব) আতিকুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি-ইত্তেফাককে বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে সেতু ধসের বিষয়টি জানানো হয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

