গত ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে। পরবর্তী কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য ও দেশের যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে যে কোনো বছরের এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করার পর ছাত্রদলের নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিএনপি নেতারা। ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করছেন আহবায়ক কমিটি অথবা নতুন কমিটি ঘোষণা ছাড়াই ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে পুরো ছাত্রদলকে ‘অস্তিত্বহীন’ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তারা। এর প্রতিবাদ ও নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে আজ সোমবার থেকে গণঅনশনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন নেতারা।
কয়েকজন ছাত্রদল নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো আহ্বায়ক কমিটি গঠন ছাড়াই আগের কমিটি বাতিল করায় পরবর্তী দেড় মাস ছাত্রদল পুরো ‘অস্তিত্ববিহীন’ অবস্থায় থাকবে। আবার পরবর্তী কাউন্সিলে কাউন্সিলর কারা হবেন, পদ প্রত্যাশী প্রার্থীরা কোন প্রক্রিয়ায় কার সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে মনোনয়ন জমা দেবেন এবং সংগঠনের দাপ্তরিক কাজ কীভাবে সম্পন্ন করা হবে— এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা কৌশল নির্ধারণ না করেই পুরো কমিটিকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে বিএনপির হাইকমান্ড নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছেন বলে দাবি করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক সহ-সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের এককেন্দ্রীক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে আমাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। এসব সমন্বয়হীনতার জন্য ছাত্রদলের কমিটি করার উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাদের নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছেন। তাই ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিও বিক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে এর জন্য তারাই দায়ী থাকবেন।
এদিকে বয়সের শর্তের কারণে যারা নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়বেন তাদের শিগগিরই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনসমূহে পদায়িত করা হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের জন্য এখন হঠাত্ করে নির্দিষ্ট বয়সের বাধ্যবাধকতা করা হলেও যুবদল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয় না। তাছাড়া ছাত্রদলকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার পরিকল্পনাই যদি থাকবে, তাহলে বিগত দিনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে কেন প্রায় তিন বছর পার করে দেওয়া হলো।
