রান তাড়া করা এত সহজ! এজবাস্টন টেস্ট দেখার পর যে কারো মনেই উদয় হবে শব্দগুলো। সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে নতুন আলোয় রাঙাচ্ছে ইংল্যান্ড। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজেই ‘টেস্ট ক্রিকেটে ইংলিশদের নতুন যুগের’ সূচনা হয়েছিল। টানা চার টেস্ট পর যেটিকে টেস্ট ক্রিকেটের ‘বিপ্লব’ হিসেবেই সবাই বর্ণনা করছেন।
২৭৭, ২৯৯ ও ২৯৬—নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টেই এসব টার্গেট তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ব্ল্যাক ক্যাপসদের চেয়ে ভারত আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল ইংলিশদের। এজবাস্টনে জয়ের জন্য স্বাগতিকদের ৩৭৮ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় ভারত। জসপ্রিত বুমরাহর দলটা জয়ের চৌকাঠে পা দিয়ে রেখেছিল, এমনই ভেবে বসেছিলেন অনেকে।
কিন্তু এই ইংল্যান্ড ভিন্ন ধাতুতে গড়া। সেটি এজবাস্টনেও আবার মঞ্চায়িত হলো। জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর জোড়া সেঞ্চুরি অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। রান তাড়ায় রেকর্ড গড়ে গতকাল ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। টেস্টে এটি ইংলিশদের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড।
চতুর্থ ইনিংসে এত বড় পুঁজি নিয়ে অতীতে কখনো হারেনি ভারত। ১৯৭৭ সালে পার্থে ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩৯ রান করে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
ইংল্যান্ডের জয়ে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র (২-২) হলো। গত বছর করোনার কারণে বন্ধ হওয়ার আগে চার ম্যাচে ২-১ এ সিরিজে এগিয়ে ছিল ভারত। এক বছর পর এসে পঞ্চম টেস্ট হেরে গেল দলটি। তাই ২০০৭ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের আশা পূরণ হলো না ভারতের।
এজবাস্টনে চতুর্থ দিনেই ম্যাচ জয়ের কাজ সিংহভাগ এগিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। ১০৯ রানে ৩ উইকেট পতনের পর জো রুট, জনি বেয়ারস্টো প্রতিরোধ গড়েন। গতকাল পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৯ রান। দেড় ঘণ্টায় ১৯.৪ ওভারে সেই গন্তব্য পাড়ি দিয়েছে ইংলিশরা। ভারত পারেনি রুট-বেয়ারস্টোর জুটিকে বিচ্ছিন্ন করতে।
গতকাল ৭৯.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৭৮ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে ৩১৬ বলে ২৬৯ রানের জুটি গড়েছেন তারা। সকালে ১৩৬ বলে রুট তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৮তম সেঞ্চুরি। গত চার টেস্টে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। বেয়ারস্টো ১২তম সেঞ্চুরি করেন ১৩৮ বলে। ঈর্ষণীয় ফরমে আছেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এজবাস্টনে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন তিনি। শেষ ৫ টেস্ট ইনিংসে চার সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি। রুট ১৭৩ বলে অপরাজিত ১৪২ রান (১৯ চার, ১ ছয়) করেন। বেয়ারস্টো ১৪৫ বলে ১১৪ রান (১৫ চার, ১ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন। জোড়া সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচ সেরা হন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৭৩৭ রান ও ২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেন রুট।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছেন রুট-বেয়ারস্টো। জয় সূচক রানটা রুটের ব্যাট থেকেই এসেছে। সেটা অপ্রথাগত শট, রিভার্স সুইপ। যেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম-বেন স্টোকস জুটির অধীনে নতুন দিনের ইংল্যান্ডের ছবি দিয়েই টেস্ট শেষ করলেন রুট। যদিও তার অধীনেই গত চার টেস্টের আগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ১টি জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। অগত্যা নেতৃত্বও ছেড়েছিলেন রুট।
