লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ২২:৪১

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধে নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। গতকাল রবিবার দুপুর থেকেই ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের নৌযানগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে সরকারি-বেসরকারি নৌযান টার্মিনাল ছাড়ছে। নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথেও যাত্রীদের চাপ ছিল উপচেপড়া।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ যাত্রী হলেও ঈদ মৌসুমে সাত সহস্রাধিক যাত্রী পরিবহন করে। ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় যাত্রীরা আল্লাহর উপর ভরসা করেই লঞ্চে যাত্রা করেন বলে জানান। গতকাল দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টিতে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) রফিকুল ইসলাম জানান, নৌ-বন্দর, নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে যাত্রীর চাপ সামাল দিতে আগে থেকেই সবকিছু করা হয়েছিল। গতকাল বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ১৯টি নৌযান যাত্রী পরিবহন করে।

বৈরী আবহাওয়া, মাস্টারদের বেপরোয়ায় নৌযান চলাচল এবং রাতে চলাচলরত পণ্যবোঝাই কার্গোর সঙ্গে দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে এবার নদীপথে যাত্রা করছে মানুষ। এ রুটের লঞ্চ চালকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বরিশাল অংশের চরবাড়িয়া, চরমোনাই, ভাসানচর, হিজলা, কালীগঞ্জ হয়ে লালখারাবাদ পর্যন্ত একাধিক বাঁক এবং অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। এসব স্থানে প্রয়োজনীয় বিকন বাতি, বয়া বা মার্কা নেই। এছাড়া পটুয়াখালী থেকে ঢাকা রুটে বরিশাল অংশের নদীপথের শ্রীপুর ও দুর্গাপাশার চারটি স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বিকন বাতি জ্বলে না। সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার জামাল হোসেনও জানান একই কথা। বিলাসবহুল লঞ্চের মাস্টাররা জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লঞ্চগুলো যতই দুর্ঘটনা এড়াতে যাক না কেন অপর লঞ্চের সংঘর্ষ থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার উপর মালবাহী কার্গো চলাচল করে কোনোপ্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে। দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় সাবধানতার সঙ্গে লঞ্চ পরিচালনা করতে হচ্ছে। লঞ্চের ডেকে চাদর বিছিয়ে চড়া দামে বিক্রি

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চের ডেকে চাদর বিছিয়ে চড়া দামে যাত্রীদের কাছে সিট বিক্রির অপরাধে এক লঞ্চ স্টাফকে আটক করেছে পু?লিশ। আটক মনির কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের গ্রীজার বলে জানিয়েছেন লঞ্চের মাস্টার নুরুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় কাজী আব্দুল হাই (৬৫) নামে এক ব্যক্তি হার্টঅ্যাটাকে মারা যান বলে বন্দর কর্মকর্তা জানান।